রাজাকারের তালিকা করতে একটি পয়সাও খরচ হয়নি : মন্ত্রী
রাজাকারের তালিকা প্রণয়নের জন্য ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে যে খবর প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে, এ ধরনের সংবাদ সত্য নয় বলে দাবি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ক একটি বিজ্ঞপ্তি মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এটি অসত্য তথ্য। এ জন্য এই ধরনের তথ্য প্রচারকারী কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথম ধাপে রাজাকারদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় এমন অনেকের নামও উঠেছে, যাঁরা প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা। তালিকা প্রকাশের পরই এ নিয়ে সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথমে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে গতকাল বুধবার সে তালিকা স্থগিত করা হয়। সেটি ওয়েবসাইট থেকেও তুলে নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তালিকা পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে। ফলে এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও কথা বলেছেন। এর মধ্যে কোনো কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই রাজাকারের তালিকা করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬০ কোটি টাকা খরচ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার এই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সুফি আবদুল্লাহিল মারুফ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “‘রাজাকারের তালিকা করতে ৬০ কোটি টাকা খরচ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।”
‘মন্ত্রী জানিয়েছেন, এ তালিকা প্রণয়নের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বা বরাদ্দ চাওয়া হয়নি। কাজেই একটি পয়সাও খরচের প্রশ্ন আসে না। এটি একটি অসত্য তথ্য।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।
‘এ সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারকারী কর্তৃপক্ষ সংবাদটি প্রত্যাহার করে আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী,’ যোগ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

অনলাইন ডেস্ক