রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে রিট
সারা দেশের রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগের পাশাপাশি অবৈধ গেট বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাস উদ্দিন ভূঁইয়া রিটটি দায়ের করেন।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে রেল বিভাগে এক হাজার ৪১২টি লেভেল ক্রসিং আছে। বুয়েটের দুর্ঘটনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ২৩৫টি দুর্ঘটনায় ২৪৪ জন মানুষ মারা যায় এবং ২২৮ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়। ২০১৭ সালে ২১১টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন মারা যায় এবং ১৫৫ জন আহত হয়। ২০১৬ সালে ১০ মাসে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৫৯ জন মারা যায় এবং ৪৬ জন আহত হয়। ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় বর-কনেসহ ১০ জন মারা যায় এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকাশিত আগস্ট, ২০১৮ ডাটাবেজ অনুযায়ী রেলক্রসিং এক হাজার ২৪২টির মধ্যে ৪৬৬টি লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান আছে এবং ৪৯৬টি লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত অবস্থায় আছে। তার মধ্যে রেলওয়ে ইস্ট জোনে ৪৩৪টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ২৫৫টিতে গেইটম্যান রয়েছে। বাকিগুলো অরক্ষিত অবস্থায় আছে। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন ১৮৯০ সালের ১৩, ১৪ ও ১২৮ ধারায় রেলওয়ে নিরাপত্তা এবং ফেঞ্চিংয়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার উল্লেখ আছে। প্রতিদিন বহুলোক নিহত ও আহত হওয়ার ফলে সুখময় রেলযাত্রা ব্যহত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পতিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে ডিভিশন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ নয়টি ডিপার্টমেন্ট বৈধ ও অবৈধ লেভেল ক্রসিং সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এত সব দুর্ঘটনার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক