জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে আরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন, সে জন্য সরকারের সব প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
urgentPhoto
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতি সম্প্রতি জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং শান্তিরক্ষা মিশনসমূহে উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে আমাদের সেনা অফিসারদের নিযুক্তি প্রদানের প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। এগুলো আমাদের সফল ও বলিষ্ঠ কূটনীতিরই সাফল্য। এসব পদ আরো অধিক মাত্রায় প্রাপ্তির লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
জাতিসংঘ মিশন এবং বহুজাতিক বাহিনীতে শান্তিরক্ষীদের অনন্য অবদান বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। এর ফলে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের বিশ্বশান্তি রক্ষায় তাঁদের পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামসহ বাংলাদেশের সকল শান্তিরক্ষী যাতে আরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন, সে জন্য সরকারের সব প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববাসীর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এ ভূমিকা চিরকাল স্মরণ করবে।’
বিশ্বশান্তি রক্ষায় ১২২টি দেশের এক লাখ সাত হাজার ৮০৫ জন নিয়োজিত, যাঁর মধ্যে বাংলাদেশের নয় হাজার ৫৯৩ শান্তিরক্ষী কাজ করছেন ১০টি মিশনে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশই এখন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। গত দুই যুগের বেশি সময়ে প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী এ পর্যন্ত ৪০টি দেশে সফলতার সঙ্গে মিশন সম্পন্ন করলেও তাঁদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৪ জন।
শান্তিরক্ষী দিবসের আজকের অনুষ্ঠানে গত এক বছরে প্রাণ হারানো ছয় শান্তিরক্ষীর পরিবার আর আহত ১০ জনকে সম্মান জানানো হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী মালি ও কঙ্গোতে কর্মরত শান্তিরক্ষী সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

আহমেদ পিপুল