জনগণের দাবি, গ্যাসের দাম কমাতে হবে : ফখরুল
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে তা কমানোর দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অবস্থান কর্মসূচিতে মির্জা ফখরুল এই দাবি জানান।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম জানান, ১ মার্চ থেকে এক চুলার জন্য দিতে হবে ৭৫০ টাকা। দুই চুলার জন্য দিতে হবে ৮০০ টাকা।
মনোয়ার আরো জানান, জুনে দ্বিতীয় দফায় বাড়বে গ্যাসের দাম। ১ জুন থেকে এক চুলার জন্য দিতে হবে ৯০০ টাকা। আর দুই চুলার জন্য দিতে হবে ৯৫০ টাকা। যদিও দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ওই ঘোষণার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকেই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জড়ো হন দলটির নেতাকর্মীরা। তাঁরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড আর স্লোগানে প্রতিবাদ জানান গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের।
কর্মসূচিতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোয় বিরূপ প্রভাব পড়বে গোটা অর্থনীতিতেই। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের খরচের বোঝার দায়ও নিতে চায় না বর্তমান সরকার।
অবস্থান কর্মসূচিতে সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে একটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত।’
‘এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তাদের জনগণের কাছে কোনো জবাব দিতে হয় না। সে কারণে তারা একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েই চলেছে।’
গ্যাসের দাম কমানোর দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘গ্যাসের মূল্য বাড়ানো যাবে না, গ্যাসের মূল্য কমাতে হবে। এটা দেশের জনগণের সকলের দাবি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু এই সরকার নির্বাচিত নয়, জনগণের সরকার নয়, তার জন্য জনগণের প্রতি তাদের দায়-দায়িত্ব নেই। তাই জনগণের ওপরে সরাসরি এবং ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স (পরোক্ষ কর) বসিয়ে এইভাবে এই সরকার গায়ের জোরে দেশ পরিচালনা করছে।’
কর্মসূচিতে দলীয় লোককে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির নেতারা বলেন, নতুন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপি। তবে ২০১৪ সালের মতো ‘একতরফা’ নির্বাচনের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
‘সময় হয়েছে আমাদের প্রতিবাদ করবার, আমাদের সোচ্চার হবার। শান্তিপূর্ণভাবে এই সরকারকে আমরা বাধ্য করব একটি নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবার জন্য’, বলেন ফখরুল।
বর্তমান সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে একের পর এক চুক্তি করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব।

নিজস্ব প্রতিবেদক