মহানবীর (সা.) কটূক্তিকারীদের মৃত্যুদণ্ডের আইন করতে হবে
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তিকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করতে হবে।
গতকাল শনিবার রাতে ময়মনসিংহে দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বাবুনগরী এই দাবি জানান।
ইত্তেফাকুল ওলামা নামে একটি সংগঠনের ময়মনসিংহ জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এশার নামাজের পর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জী।
সম্মেলনে বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন অংশ নেন। এতে দেওয়া বক্তব্যে বাবুনগরী বলেন, ‘বাংলাদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট কিছু, ইনডাইরেক্ট কিছু বড় বড় চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বর্তমান নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবীর নামে একটা মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এটার আসল উদ্দেশ্য হলো এ দেশের কোটি কোটি মুসলমানের ইমান-আকিদা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করা। মূর্তিপূজক রাষ্ট্র ভারত। এর পরও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে কোনো মূর্তি নাই। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সামনে এই মূর্তি কেন? জবাব চাই।’
‘সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে যদি মূর্তি অপসারণ করা না হয়, ১৬ কোটি তৌহিদি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।’

‘কওমি মাদ্রাসার ওলামায়ে কেরামরা যদি শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত না করতাম, তা হলে ওরা চোর আর ডাকাত হইত। বিশৃঙ্খলা আরো বেশি হতো। কওমি মাদ্রাসার মাধ্যমে দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি তাদের জঙ্গি বলা হয়, সন্ত্রাসী, তা হলে ১৬ কোটি জনতা তাদের চক্ষু তুলে ফেলবে। কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে এদিক-সেদিক বললে খবর আছে।’
বাবুনগরী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ভূমিকা নাই। কঠিন ভূমিকা আছে নাস্তিক-মুরতাদের বিরুদ্ধে। আমি দাবি করব, যারা নবীর শত্রু, যারা নবীর দুশমন, যারা নবীর সঙ্গে বেয়াদবি করে, নবীকে নিয়ে কটাক্ষ করে কথা বলে, তাদের মাথা তাদের ধরের সঙ্গে থাকতে পারে না। আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। সেটা থাকবে প্রশাসনের হাতে। তবে নবীর প্রতি কটাক্ষকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হবে।’
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহীর জেলা সভাপতি মুফতি মহিবুল্লাহ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সা’দী, বড় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবদুল হক, শায়খুল হাদীস মাওলানা এমদাদুল হক, সংগঠনের ফতোয়া বোর্ডের সভাপতি মুফতি ফজলুল হক, মুফতি আহাম্মদ আলী, মাওলানা হাফেজ তফাজ্জল হক, মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা যোবায়ের আহমাদ আনসারী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা দেলাওয়ার হুসাইন, মাওলানা ড. শামছুল হক সিদ্দীক, মাওলানা মাসউদুল করিম, মাওলানা শরীফ মাহমুদ কাসেমী, মাওলানা আসজাদ মাদানী (ভারত), মাওলানা শায়েখ মুফতি সৈয়দ নাসির বিল্লাহ মক্কী, ড. শহীদুল ইসলাম ফারুকী, মেয়র ইকরামুল হক টিটু প্রমুখ।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ