আতিয়া মহলের অপর দুই জঙ্গির ময়নাতদন্ত
সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর অপারেশন টোয়াইলাইটে নিহত দুই জঙ্গির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে দুজনের মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। এর আগে আরো দুই জঙ্গির ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ জানান, সোমবার যে দুজন জঙ্গির লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল আজ তাদের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। এর আগে ওই দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
গতকাল সোমবার বিকেলে আতিয়া মহল থেকে লাশ দুটি নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়। এর আগে দুপুর প্রায় ১টার দিকে র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল অভিযান শুরু করে।
আতিয়া মহলে পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে নগরীর হজরত মানিক পীর (রহ.)-এর কবরস্থানে দাফন করা হয়। অপর দুই জঙ্গির শরীরে সুইসাইডাল ভেস্ট লাগানো থাকায় ও ভবনটিতে আরো তাজা বোমা থাকায় লাশ উদ্ধার না করেই অপারেশন টোয়াইলাইট সমাপ্ত ঘোষণা করে সেনাবাহিনী।
গত ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানার বিষয়টি টের পেয়ে আতিয়া মহলের চারদিকে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ২৫ মার্চ শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোদের ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন এর নেতৃত্ব দেন। অভিযানের শুরুতে উদ্ধার করা হয় ওই ভবনে অবরুদ্ধ থাকা ৭৮ জনকে। ওইদিন রাতে আতিয়া মহলের অদূরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজন নিহত এবং অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় শেষ হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। অভিযানে নিহত হয় চার জঙ্গি। এরপর গতকাল দুপুর প্রায় ১টার দিকে র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল অভিযান শুরু করে।

মারুফ আহমেদ, সিলেট