‘আমি দেখছিলাম, অনেকে ডুবে যাচ্ছে’
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও দোসরদের হত্যাযজ্ঞ থেকে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছিল অন্তত ১০০ রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই ছিল বেশি। কিন্তু নিপীড়কদের থেকে অনেক দূরে এসেও প্রাণে বাঁচতে পারেনি তাদের অনেকেই। সাগরে ডুবে প্রাণ গেছে অন্তত ১৬ জনের।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গোপসাগরের ইনানী সৈকত পয়েন্টে ঢেউয়ের তোড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
রাখাইন থেকে নৌকায় পালিয়ে আসা ওই ১০০ জনের মধ্যে একজন ছিলেন ২২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা যুবক নুরুল ইসলাম। গত বুধবার রাতে রাখাইন রাজ্যের রাথেডংয়ের গো জোন ডিয়া গ্রাম থেকে তাঁরা বাংলাদেশে আসছিলেন।
নুরুল ইসলামদের বহনকারী নৌকাটি ইনানী সৈকতে ডুবে যাওয়ার পর ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকাডুবির বিষয়ে তিনি আলজাজিরাকে জানান, ১০০ জনের ওই নৌকায় তাঁর মা, স্ত্রী ও সন্তান ছিল। একই সঙ্গে সেখানে তাঁর বোন ও তিন সন্তান ছিল। তিনি আশঙ্কা করছেন, তাঁদের সবাই মারা গেছে।
নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমার ছেলেকে ধরে রাখতে রাখতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি তাকে ধরে রাখতে পারিনি।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ২৭ বছর বয়সী বিলাল উদ্দিন আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমি দেখছিলাম, অনেকে ডুবে যাচ্ছে। আমি কাউকে রক্ষা করতে পারিনি। তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছি।’
মোহাম্মদ কাই কিসলু নামে পুলিশের এক পরিদর্শক আলজাজিরাকে বলেন, ‘বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গারা বলেছে, ওই নৌকায় ১০০ জন ছিল।’
ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত কর্মকর্তা স্টালিন বড়ুয়া এনটিভিকে জানান, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাটি বঙ্গোপসাগরের ইনানী সৈকত পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছালে ঢেউয়ের আঘাতে ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ জনের।
গত ২৫ আগস্ট সন্ত্রাসী দমনের নাম করে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণে মেতে ওঠে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তার সহযোগীরা। সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে পালিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ এক হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

অনলাইন ডেস্ক