নারায়ণগঞ্জ পার হলেন খালেদা জিয়া
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজারের পথে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
আজ শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর গুলশানের বাসা থেকে বের হন। এরপর দুপুর পৌনে ২টার দিকে দিকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর সেতু পেরিয়ে কুমিল্লার দিকে যায়। সবশেষ দুপুর সোয়া ২টার দিকে তিনি মেঘনা সেতু পার হচ্ছিলেন।
কাঁচপুর সেতু এলাকায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গাড়ি থেকে নেমে যানজট নিরসনের জন্য দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
সকাল ১০টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রাজপথে এসে জড়ো হন। তাদের হাতে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবি শোভা পাচ্ছিল। তাঁরা দলীয় চেয়ারপারসনের নামে স্লোগান দেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল বলেন, দীর্ঘদিন পর নেতাকর্মীরা নেত্রীর দেখার আশায় জড়ো হন। এখানে উৎসবের আমেজে নেতাকর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এটি বিএনপির চেয়ারপারসনের মানবিক সফর। সে কারণেই দলের নেতাকর্মীদের কোনো তোরণ বা গেইট নির্মাণ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা যাত্রাপথে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের চারদিনের কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়া ঢাকা থেকে সরাসরি নিজের নির্বাচনী জেলা ফেনীতে যাবেন। সেখানে তিনি সার্কিট হাউসে দুপুরের খাবার ও নামাজ আদায় করবেন।
খানিকটা বিরতি দিয়ে বিকেলে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন। রাতে বন্দর নগরীর সার্কিট হাউসে থাকবেন তিনি।
আগামীকাল রোববার সকালে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হবেন খালেদা জিয়া। সে সময় চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলার নেতরাও তাঁর সঙ্গে যুক্ত হবেন। এ দিন জেলা সার্কিট হাউসেই বিশ্রাম নেবেন তিনি।
পরের দিন সোমবার সকাল ১১টায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ দিতে যাত্রা করবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে ফিরে জেলা সার্কিট হাউসেই বিশ্রাম নিবেন। পরে বিকেলে কক্সবাজার ছেড়ে চট্টগ্রামে এসে সেখানেই রাতযাপন করবেন।
মঙ্গলবার ঢাকা উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছাড়বেন খালেদা জিয়া। আসার পথেও ফেনীতে যাত্রা বিরতি দেবেন তিনি।
গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। প্রতিদিন নতুন করে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে ভিড় করছে রোহিঙ্গা সদস্যরা। এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদি’ উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।
বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা এরই মধ্যে ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তাদের বেশির ভাগই ক্যাম্পে বসবাস করছে। এতে এক মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা