‘৫৭ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী নয়’
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে কেন সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে না-এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য একটি রুল জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
চার সপ্তাহের মধ্যে আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন রিটের পক্ষের আবেদনকারী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটির শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
গত ২৭ আগস্ট দেশের ১১ জন বিশিষ্ট নাগরিক আইনের এ ধারাটি বাতিল চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তাদের পক্ষে ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশদাতা ১১ জন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আকমল হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক গীতি আরা নাসরিন ও ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞানের সামিনা লুৎফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, ঢাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সংস্কৃতিকর্মী অরূপ রাহী ও লেখক রাখাল রাহা।
নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অঙ্গীকারের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সাংঘর্ষিক।
তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ। (২) কোনো ব্যক্তি উপধারা (১)-এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। ’

মোঃ জাকের হোসেন (Md Zaker Hossain)