যেমন বুনো ওল, তেমন বাঘা তেঁতুল
রাজশাহীর বাঘা থানা পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) থাপড় মেরেছেন যুবলীগ নেতা আবুল কালাম মিঠু। আজ সোমবার সকালে উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বাঘা থানার এএসআই ইউসুফ আলী মোটরসাইকেল নিয়ে নারায়ণপুর বাজারে আসেন। এরপর তিনি মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রেখে অন্য পাশে মোবাইলফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় শুভ নামের এক সাইকেল আরোহীর সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। এএসআই ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে শুভকে মারধর করেন। ঘটনার সময় পাশ দিয়ে মোটরসাইকেলে সন্তানকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বাঘা উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আবুল কালাম মিঠু। এ সময় সেখানে লোকজন জড়ো হলে যুবলীগ নেতা মিঠুর মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এএসআই ইউসুফ আলীর। এ ঘটনায় মিঠুকেও মারতে যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে যুবলীগ নেতা মিঠু এএসআই ইউসুফ আলীকে থাপড় মারেন। এ সময় ইউসুফ আলী যুবলীগ নেতা মিঠুকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারে বাড়িতে অভিযান চালায়। যুবলীগ নেতার অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে পুলিশ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরে তাঁর শিশু সন্তানের মাথায়ও পিস্তল ঠেকায়।
জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা মিঠু জানান, সকালে তিনি স্কুল থেকে তাঁর সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে আরো একটি বাচ্চা ছিল। নারায়ণপুরবাজার পার হওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাসের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের সামান্য ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় তিনি ওই ব্যক্তির গালে থাপড় দেন।
মিঠু বলেন, পরে ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ বলে পরিচয় দেন। তবে তিনি ছিলেন সাদা পোশাকে। চিনতে না পারার কারণে এমনটি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ বলেন, যুবলীগ নেতা মিঠুর সঙ্গে এএসআই ইউসুফের কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। চড়-থাপড় মারার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাতে তাদের দুজনকে একসঙ্গে বসিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।

শ. ম সাজু, রাজশাহী