জয়পুরহাটে এক বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত
জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ড. আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে কাল সোমবার থেকে তাঁর আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একই অভিযোগে নাজমুল ইসলাম জনি নামের এক আইনজীবীর সদস্য পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
ডিসেম্বর মাসে জেলা জজ আদালত বন্ধ থাকায় জামিন শুনানির জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ড. আবদুল মজিদ বর্তমানে অবকাশকালীন জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ব্যাপারে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর মন্তব্য জানা যায়নি। তবে এর আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আজ রোববার বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে জেলা আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সাধারণ সভায় সমিতির সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত নেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী রাব্বিউল হাসান মোনেমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু নাসিম মো. শামীমুল ইসলাম, সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল, রেজাউল ইসলাম, ইউনুছার রহমান, মোকছেদুর রহমান প্রমুখ।
ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জামিন দেওয়ায় আইনজীবীরা ওই বিচারককে অন্যত্র বদলি না করা পর্যন্ত অবকাশকালীন জজ আদালত এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ওই বিচারকের সঙ্গে ঘুষ দুর্নীতিতে জড়িত থেকে জাল কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন নিয়ে দেওয়ার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য নাজমুল ইসলাম জনির সদস্য পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সদস্য পদ স্থায়ীভাবে স্থগিত করার জন্য কারণ দর্শানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত আকারে স্থানীয় সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি মুঠোফোনে দাবি করেন, তিনি ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট