জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় ইজতেমায় ৫ স্তরের নিরাপত্তা
জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় ইজতেমাস্থল ঘিরে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাব। র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান এই তথ্য জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার মাঠসংলগ্ন মন্নুনগর এলাকায় স্থাপিত র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে প্রেস ব্রিফিং করেন কর্নেল জিয়া।
কর্নেল জিয়া বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্ব সম্প্রতি জঙ্গি হামলা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। সবাই জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করছে। অর্থাৎ জঙ্গি হামলার বিষয়টি কেউ উড়িয়ে দিচ্ছে না। আমরা সেই রকম প্রস্তুতি নিয়ে এখানে কাজ করছি। জঙ্গি হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছি। ইজতেমাস্থল ঘিরে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছি।’
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ইজতেমার ১৮টি প্রবেশপথে এবং মেহমানখানায় সিসি টিভি আছে। ৩৮টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো ইজতেমা ময়দান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জিয়াউল আহসান বলেন, বিশ্বে ইজতেমায় যাঁরা এসেছেন, সবাই মিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করলে যেকোনো হামলা প্রতিরোধ করা সক্ষম। তিনি বলেন, ২০০৫ সালের পর থেকে যেভাবে জঙ্গি হামলা শুরু হয়েছিল তা আপনাদের সবার উদ্যোগে বন্ধ করা গেছে। ইজতেমা ময়দানে র্যাব দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছে। সমস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমাদের নয়টি অবজারভেশন পোস্ট রয়েছে। পর্যবেক্ষণ চকি থেকে ইজতেমার ভেতরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আভাস পেলে তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা করা হবে। রাতেও এই অবজারভেশন পোস্ট থেকে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। তুরাগতীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান অবস্থিত। এই তুরাগ নদে স্পিডবোটের মাধ্যমে নৌ টহল থাকছে। সার্বক্ষণিক নৌ টহল দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে টহলের ব্যবস্থা রয়েছে। ইজতেমায় আকাশ পথে টহল ছাড়াও হেলিকপ্টারের সাহায্যে প্রয়োজনে অসুস্থ ব্যক্তির পরিবহন কাজে ব্যবহার করা হবে। নিরাপত্তার পাশাপাশি র্যাবের রয়েছে মেডিকেল টিম। এ ছাড়া আখেরি মোনাজাতে আসা ও ফিরে যাওয়ার সুবিধার্থে সাধারণ মানুষের জন্য মহাখালী থেকে ইজতেমা পর্যন্ত থাকবে র্যাবের বিশেষ স্যাটল গাড়ি। ইজতেমা ময়দানে আগত নারীদের নিরাপত্তার জন্য র্যাবের বিশেষ মহিলা টিমও নিয়োজিত রয়েছে।
পকেটমার ও হকার গ্রেপ্তার, কারাদণ্ড : টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ইজতেমাস্থল ও আশপাশে অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধশত হকার ও পকেটমারকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, পকেটমার-ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারে এবং হকার উচ্ছেদে ইজতেমা এলাকায় পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। পুলিশের তৎপরতার কারণে অন্যবারের তুলনায় এবারের ইজতেমা এলাকায় পকেটমার ও ছিনতাইয়ের ঘটনা তুলনামূলক অনেক হ্রাস পেয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত : ইজতেমা মাঠের আশপাশ এলাকার হোটেল রেস্তোরার আজ দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্য রাখা ও বিক্রয়ের অভিযোগে ১২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠের আশপাশ এলাকার দুই পালায় মোট ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছেন। গাজীপুরের ১৪ জনসহ বিভিন্ন জেলার ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই সব আদালত পরিচালনা করছেন।
হেলিপ্যাড : দুর্ঘটনা ও ভিআইপি বহনের জন্য টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে বলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর