নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
জনসভায় উপস্থিত জনতার কাছ থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি সবাইকে হাত উঁচিয়ে নৌকায় ভোট দিতে সবাইকে অঙ্গীকার করান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। তার কারণ আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা এনেছে। আর যারা উড়ে এসে জুড়ে ক্ষমতায় বসে, তারা আসে লুটপাট করতে। তারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করে তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে ইনশাল্লাহ আমি বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি আমার প্রিয় সিলেটবাসীকে একটা কথাই বলতে চাই যে, আমার কাছে দাবি করা লাগবে না। আমি বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ঘুরেছি। এ দেশের মানুষের সমস্যা কী তা আমার জানা। কীভাবে সমাধান করতে হবে আমরা জানি। এটুকু ভরসা কি আমাদের ওপর আছে, আপনারা বলেন? নিশ্চয় এই ভরসাটুকু আপনারা রাখবেন।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং নৌকা মার্কা; একটা কথা মনে রাখবেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছেন। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলেই আজকে দেশের উন্নতি হচ্ছে। কাজেই আগামী দিনেও নৌকা কখনো ভুলবেন না। নৌকায় আগামীতে ভোট দেবেন তো? হাত তুলে দেখান। হাত তুলে ওয়াদা করেন। হাত তুলে ওয়াদা করেন যে, নৌকায় ভোট দেবেন। আপনাদের ধন্যবাদ। কারণ নৌকাই শান্তি দেবে, নৌকাই সমৃদ্ধি দেবে, নৌকাই এ দেশের মানুষের মুক্তি এনে দেবে।’
পেট্রলবোমা দিয়ে হত্যাকারীদের ক্ষমা নেই
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে তাদের কোনো ক্ষমা নেই। যেখানে যেখানে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেখানে সেখানে মামলা হয়েছে। সবার বিচার হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা হানাদার বাহিনীর পক্ষে ছিল। তাদের বিচার আমরা শুরু করেছি। এদের মধ্যে অনেকেরই বিচার হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়া সেই বিচার বন্ধ করেছিলেন। আমরা সেই বিচার শুরু করেছি। সেই বিচার অব্যাহত থাকবে, বাংলাদেশ কলুষমুক্ত হবে।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘একদিকে যেমন আমরা বিচারকার্য চালাচ্ছি, অন্যদিকে, উন্নয়ন কার্যক্রম করছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে। তখনই উন্নয়ন হয়েছে। আজকে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের উপহার দিয়ে গেলাম।’ এরপর বেশ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেড় কোটি মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। তা ছাড়া আমরা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা চালু করেছি। এ দেশের কোনো মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, ভিজিএফ, ভিজিডির মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। তা ছাড়া আট হাজার পোস্ট অফিস ডিজিটাল করার কাজ চলছে। সেখানেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি। ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি কোনো সরকার করতে পারে নাই।’
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন লন্ডন থেকে বিমান সরাসরি সিলেটে আসে। এটা আমরা করেছি। বিমানকে মৃতপ্রায়, লাশ করে রাখা হয়েছিল। আমরা বিমানে নতুন পাঁচটি বোয়িং যুক্ত করেছি।’

নিজস্ব প্রতিবেদক