সৌদি আরবের সঙ্গে মানবিষয়ক কারিগরি সহায়তা চুক্তি
সৌদি আরবের সঙ্গে মানবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় কারিগরি সহায়তা চুক্তি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং দেশটির জাতীয় মান সংস্থা সৌদি স্ট্যান্ডার্ডস, মেট্রোলজি অ্যান্ড কোয়ালিটি অর্গানাইজেশনের (সাসো) মধ্যে এই চুক্তি হয়। এ চুক্তির ফলে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিএসটিআই প্রদত্ত মান সনদ গ্রহণযোগ্য হবে। ফলে এসব দেশে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়বে।
বাংলাদেশের পক্ষে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক মো. ইকরামুল হক এবং সৌদি আরবের পক্ষে সাসো’র গভর্নর সা’দ বিন ওতমান আল-কাসাবি এ চুক্তিতে সই করেন। এ সময় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু উপস্থিত ছিলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চুক্তি সইয়ের আগে শিল্পমন্ত্রী সৌদি আরবের বিখ্যাত সার ও রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি অ্যারাবিয়া বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (সাবিক) নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক মো. ইকরামুল হক, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহসহ বাংলাদেশ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সাবিকের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বর্তমানে সাবিক বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ কেমিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি বিশ্বমানের কেমিক্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিমার, সার ও ধাতবপণ্য উৎপাদন করছে।’ তিনি বাংলাদেশে রসায়ন শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় শিল্পমন্ত্রী সাবিক উৎপাদিত ইউরিয়া সারের গুণগতমানের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষকদের মধ্যে এ সার অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশ সাবিক উৎপাদিত ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। চলতি অর্থবছর বাংলাদেশ এ প্রতিষ্ঠান থেকে তিন লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য এরই মধ্যে তিন লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে।’
পরে শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ বাড়াতে সৌদি শিল্প উদ্যোক্তা সংগঠন ‘কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার’-এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার রাতে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু পাঁচদিনের সফরে সৌদি আরব গেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা