পৌরকর পরিশোধে অনীহা সাভারের শিল্প মালিকদের
সাভারে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে পৌরকর পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বয়ং পৌর মেয়র শিল্প মালিকদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কর পরিশোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি শিল্প মালিকদের। আর কর না দেওয়ার ফলে সাভার পৌর এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র হাজি আবদুল গনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাভার পৌর মেয়র আবদুল গনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌরসভার প্রায় ১৪ কোটি টাকা কর বকেয়া রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পোশাকশিল্প কারখানা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সুপারমার্কেট ও উপজেলা পরিষদও। একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান চেকের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ করলেও ব্যাংক থেকে ফেরত এসেছে সেই চেকটি। এসব কারণে অর্থাভাবে পৌর এলাকার অনেক উন্নয়নকাজই তাঁর পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান মেয়র।
আবদুল গনি জানান, পৌরকর পরিশোধ করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ বারবার শিল্পকারখানার মালিকদের নোটিশ দিলেও কারখানার মালিকরা এসব নোটিশের জবাব দিচ্ছেন না। এভাবে চলতে থাকলে তিনবার নোটিশ দেওয়ার পরও যেসব প্রতিষ্ঠান পৌরকর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে পৌরবিধির ১২(২) ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থাসহ ক্রোকি পরোয়ানা নোটিশ জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।
যাঁরা কর দিচ্ছেন না, তাঁদের সতর্ক করে দিয়ে মেয়র বলেন, ‘বকেয়া পৌরকর পরিশোধ করুন। ফাঁকি দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা হবে।’ তবে অযথা কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও খেয়াল রাখা হবে বলে জানান তিনি।
সাভার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরকর খেলাপির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকার আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড। এ গ্রুপটির কাছে পৌরকর বকেয়া রয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া একই এলাকার আলী-ইসলাম টেক্সটাইলের কাছে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা, এইচ আর টেক্সটাইলের কাছে দুই লাখ ৫২ হাজার, সাভার টেক্সটাইলে ১৪ লাখ, সাভার উপজেলা পরিষদের কাছে ১০ লাখ, ইস্টাইল ফেব্রিক লিমিটেডের কাছে ৭৪ হাজার, ক্যাপিটাল গার্মেন্টের কাছে নয় লাখ, বেঙ্গল ফাইন সিরামিকসের কাছে ১৭ লাখ ১১ হাজার, ব্লু-বার্ড গার্মেন্টের কাছে সাত লাখ ৫৫ হাজার, ভরসা সুপারমার্কেটের কাছে চার লাখ ৮৭ হাজার, রাজাবাড়ী ফেব্রিক লিমিটেডের কাছে এক লাখ ২৩ হাজার, উত্তরা ব্যাংকের কাছে আট হাজার, চৌরঙ্গী সুপারমার্কেটের কাছে ৭৯ হাজার, দীপিকা কিন্ডারগার্টেনের কাছে ৫৪ হাজার, ওফাজ উদ্দিন স্পিনিংয়ের কাছে ১২ লাখ ৬৮ হাজার, আইচানোয়াদ্দার চৌতালি টেক্সটাইলের কাছে এক লাখ ৩৮ হাজার, এরফান ফুড লিমিটেডের কাছে সাত লাখ ৪৬ হাজার টাকাসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সাভার পৌরসভার ১৪ কোটি টাকার পৌরকর বকেয়া রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এরফান ফুড লিমিটেড পৌরকর পরিশোধ হিসেবে পৌসভাকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকার একটি চেক দেয়। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ টাকা তুলতে গেলে এরফান ফুডের ব্যাংক হিসাবে টাকা না থাকায় ওই চেকটি ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে। এখন এরফান ফুড লিমিটেডের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থায় যাবেন বলে জানিয়েছেন মেয়র।
পৌরকর আদায়ে তাগাদা দেওয়ার জন্য পৌরসভার কর্মীরা এসব কারখানায় গেলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন মেয়র। ফলে এসব কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া পৌর কর্তৃপক্ষের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে কর ফাঁকির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কোনো কারখানা কর্তৃপক্ষই ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

জাহিদুর রহমান