পাবনায় অবৈধ যান চলাচল বন্ধ, শ্রমিকদের ধর্মঘট
পাবনার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে আজ রোববার থেকে নছিমন করিমন ভটভটিসহ শ্যালোইঞ্জিন চালিত অবৈধ যানবাহন ও শহরের মধ্যে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ফলে সড়ক-মহাসড়কে দাঁড়াতেই পারছে না শ্যালোইঞ্জিন চালিত এসব অবৈধ যান।
এদিকে শহরের মধ্যে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন মালিক-শ্রমিকরা। তাঁরা রোববার সারা দিন শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। শহরের ব্যস্ততম সড়কে অবস্থান নেন। এ নিয়ে সারা দিন শহরে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
পাবনা হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, হাইকোর্টের পক্ষ থেকে মহাসড়কে অবৈধ নছিমন করিমন ভটভটি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেই আদেশ পালন করার জন্যই তাঁরা মহাসড়কে নছিমন করিমন ভটভটি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। প্রতিদিনই অসংখ্য নছিমন করিমন ভটভটি আটক করছেন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কারণে তাঁরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
এদিকে মহাসড়কে ভটভটি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা। নিম্ন আয়ের মানুষ এই ভটভটিতে চড়ে খুব সহজেই অল্প খরচে যাতায়াত করতে পারতেন। আর কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্য ক্ষেত থেকে সরাসরি বাজারে নিয়ে যেতে পারতেন। এতে খরচ ও সময় দুটোই কম হতো। কিন্তু পুলিশের এই কড়াকড়িতে তাঁরাও বেশ বিপাকে পড়েছেন। আবার নছিমন করিমন ভটভটি চালাতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধহারে দিন কাটাতে হচ্ছে পাবনার অন্তত পাঁচ হাজার অবৈধ যানবাহনের চালক পরিবারকে। তারা অবিলস্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
কামাল হোসেন নামের দাশুড়িয়ার কৃষক বলেন, মহাসড়কে ভটভটি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। তাঁরা দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে ভ্যানে করে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে তাঁদের খরচ বেশি হচ্ছে এবং লাভ কম হচ্ছে। একই কথা জানান মুলাডুলি এলাকার শিমচাষি সাত্তার।
এদিকে পাবনা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চালক ও মালিকরা। আজ রোববার সকাল থেকে শহরের বীণা হল চত্বরে সমবেত হয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করে।
রোববার থেকে পুলিশ প্রশাসন শহরের যানজট নিরসনে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের আবদুল হামিদ সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রচার চালায়। এরই প্রতিবাদে সকাল থেকে অটোবাইক মালিক-শ্রমিকরা শহরে ধর্মঘট আহ্বান করে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীণা হল মোড়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি বিপ্লব সান্যালের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পাবনা অটোরিকশা মালিক-চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাদল, অটোবাইকচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ জোয়ার্দার প্রমুখ।
পাবনা অটোরিকশা মালিক-চালক সমিতির সভাপতি বিপ্লব সান্যাল বলেন, আকস্মিকভাবে পাবনা শহরে অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় কয়েক হাজার মালিক-শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানান।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাদল বলেন, ‘বিনা কারণে আমাদের অর্ধশতাধিক অটোবাইক আটক করা হয়েছে। বিনা কারণে যখন তখন আমাদের টায়ার নষ্ট করে দেওয়া হয়। অথচ আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে শহরে যানজট নিরসনের জন্যে সমিতির খরচে বিভিন্ন পয়েন্টে ১০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও প্রশাসন একটি কুচক্রী মহলের ইশারায় আমাদের এই যানবাহন বন্ধ করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের দাবি, আগামী সোমবারের মধ্যে না মানলে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।’
পাবনা শহর ও শহরের বাইরে পাঁচ সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত অটোবাইক এবং দুই হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে। আকস্মিক এই ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরে চলাচলকারী জনসাধারণ।
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ থাকায় আমরা সেই আদেশ পালন করছি। এ জন্যই সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’
গত ১১ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈশ্বরদীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের মহাসড়কে অবৈধ যান বন্ধের নির্দেশ দেন।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা