তারেক রহমানসহ চারজনের মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ

বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বির হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার মামলা বাতিলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ চারজনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার বিচারপতি মোহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। তবে এ মামলায় তারেক রহমানসহ চারজনের জামিন বহাল থাকবে।
এদিকে, আবেদন খারিজ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন তারেক রহমান। বিষয়টি তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে। আশা করি, আমরা উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাব।’ তিনি বলেন, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এফআইআরে তাঁর নাম ছিল না।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এ মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ছাড়া অন্য তিনজন আবেদনকারী হলেন- সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আবু সুফিয়ান ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল।
এ আবেদনের তারেক রহমানের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও রাগিফ রউফ চৌধুরী শুনানি করেন। অপরদিকে, দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৪ জুলাই বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক সাব্বির খুন হলে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৪ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক আবুল কাসেম রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন; যাতে তারেক রহমানসহ আটজনকে আসামি করা হয়।
২০০৮ সালের ২৩ এপ্রিল ওই আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। সে সময় জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে ২০০৮ সালের ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা এরপর মামলা দায়ের ও অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করেন তারেক রহমানসহ চারজন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ওই বছরই রুল জারির পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। ওই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয় চলতি বছর।
রাগিফ রউফ চৌধুরী বলেছিলেন, মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। পরে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও সঠিক নয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের আবেদনের ওপর রায় ঘোষণার জন্য ১৬ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়।