রাতে ব্যালটে সিল, ১১ এসআইকে বরখাস্তের নির্দেশ
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আগের রাতে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা মামলা করার জন্য সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় হাজির হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী রাতেই এ মামলা করা হবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও (ওসি) বলেছেন, মামলা রেকর্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় এই তথ্য দেন সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানার ওসিরা।
গত মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগের রাতে সাতক্ষীরার ছয়টি ইউনিয়নের ১৪টি কেন্দ্রে ঢুকে দুর্বৃত্তরা অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মেরে ভোট বাক্স ভর্তি করে। এই অভিযোগে ওই সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশনায় জানিয়েছে যে সাতক্ষীরা জেলার পাঁচটি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৪টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা এ মামলা করবেন। এতে আসামিভুক্ত হবেন তারা যাদের ব্যালটের অনুকূলে সিল মারা হয়েছে তারাই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১১ উপপরিদর্শকদের (এসআই) সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশও দিয়েছে কমিশিন।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. সামসুল আলম এই নির্দেশনা দেন। আজ এ সংক্রান্ত পত্র সংশ্লিষ্ট থানা ও নির্বাচন কার্যালয়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
শ্যামনগর থানার ওসি এনামুল হক জানান, জয়াখালীর কৈখালি মহাজেরিন প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কৈখালি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শৈলখালির এমইউ মাদ্রাসার প্রিজাইডিং কর্মকর্তা যথাক্রমে লিয়াকত আলী, দেবাশীষ মিস্ত্রী ও বসন্ত কুমার থানায় এসেছেন মামলা করার জন্য। রাতেই মামলা রেকর্ড করা হবে।
একই তথ্য দিয়েছেন দেবহাটা থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নওশাদ আলী থানায় এসেছেন। তিনি মামলাকরবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, কুমিরা ইউনিয়নের ভাগবহা, দাদপুর ও অভয়তলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. নাহিদ পারভেজ, আনন্দ মোহন হালদার ও আতিয়ার রহমান থানায় এসে মামলার কাগজপত্র তৈরি করছেন।
কলারোয়া থানার ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিম জানিয়েছেন, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের শাকদহা কেন্দ্র ও কলাটুপি এবং কেরালকাতা ইউনিয়নের বলিয়ানপুর কেন্দ্রের প্রিজাইডিংঅফিসার অমল কান্তি ও মাহফুজার রহমান মামলা করতে থানায় পৌঁছে গেছেন।
এ ছাড়া সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ জানান, আলীপুর, মাহমুদপুর, ভাড়ুখালি ও গাংনিয়া মাদ্রাসার প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা থানায় আসছেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন। তাঁরাও মামলা করবেন বলে তিনি জানান। এর মধ্যে রয়েছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম কামরুল হাসান জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা থানায় বিভিন্ন আলামত জমা দিয়ে মামলা করতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের ১১ জন এসআইকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁরা ওই সব কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এ সংক্রান্ত তালিকাও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বরাবর পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, মামলায় যারা আসামি হচ্ছেন তাঁরা হলেন কলারোয়ার কুশোডাঙ্গায় আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী আসলামুল আলম, কেরালকাতায় স ম মোর্শেদ আলী, কুমিরায় একই দলের আজিজুল ইসলাম, কৈখালিতে জিএম রেজাউল করিম, আলীপুরে মহিউর রহমান মউর, দেবহাটার পারুলিয়ায় মো. সাইফুল ইসলাম। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।
এদিকে নির্বাচন কমিশনে তাঁকে ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির আজ দুপুরে বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিপত্র তাঁর কাছে পৌঁছায়নি।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা