দানবদের হত্যা করি, দেশ এগিয়ে যাবে : এইচ টি ইমাম

চলমান হরতাল-অবরোধে পেট্রলবোমা হামলা করে মানুষ হত্যাকারীদের ‘দানব’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের হত্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি বলেছেন, ‘আজকে যে দানবগুলো সৃষ্টি হয়েছে, (আসুন) ওই দানবদের আমরা হত্যা করি। এই দানবদের আমরা নিশ্চিহ্ণ করি। বাংলাদেশ পরিত্রাণ পাবে। তবেই বাংলাদেশ আবার অগ্রগতির পথে দ্রুত এগিযে যাবে।’
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আয়োজিত দিনব্যাপী পতাকা উৎসবে এ কথা বলেন এইচ টি ইমাম। পেট্রলবোমায় আহত নিহতদের কথা তুলে তিনি বলেন, ‘কারা করেছে এসব? তারা কি মানুষ? নাকি মানুষ নামের দানব?’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘এই যে দানব আমাদের দেশে বিরাজ করছে, আসুন আমরা ওই একাত্তরে যে ইয়াহিয়া খানের কার্টুনটি মনে আছে? আসুন এই পশুটিকে আমরা হত্যা করি? শিল্পী কামরুল ইসলাম এই দানবদের হত্যা করি বলে যে পোস্টারটি এঁকেছিলেন, আজকে আমরা বলি, আজকে যে দানবগুলো সৃষ্টি হয়েছে, ওই দানবদের আমরা হত্যা করি।’
পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আপনারা কি মনে করেন কেউ যে, পাকিস্তান এখন পর্যন্ত, মানে রাষ্ট্রনায়কেরা, মানে পাকিস্তানের এসটাবলিশমেন্ট, তারা কি বাংলাদেশকে মেনে নিয়েছে? আইএসআই কি বাংলাদেশে কম তৎপর? আজকে আমাদের যে ধ্বংসলীলা চলছে, পেট্রল বম্ব, ফায়ার বম্ব ব্যবহার করে যেভাবে এই দেশকে নরকে পরিণত করার প্রচেষ্টা, তার পেছনে কারা? ওই একাত্তরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা সেই লোকগুলোই।...আমি সেদিনও একটি আলোচনায় শুনছিলাম, যে ৭৫-এর অগাস্টের পরে তো খন্দকার মোশতাক ছিলেন। তার সময়ই তো এই রাজাকারদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তা তো নয়। আসলে তো সরকার পরিচালনা করেছেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান মোশতাককে কোণঠাসা করে দিয়ে, তার পরবর্তীকালে সায়েমকে নিয়ে এসে চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিজে হয়েছেন।’
‘এবং জিয়াউর রহমানই এই প্রথম আলীমের মতো একজন জঘন্যতম নরখাদক, তারপরে মাওলানা মান্নান...ইত্যাদি, নাম করেই বলছি, তারপরে নিজামি, মুজাহিদ এদের সকলকে..তাদেরকে শুধু নিয়ে আসা নয়। এটি বিরাট একটি প্ল্যান। যে প্ল্যানে পাকিস্তান, আইএসআই সকলে মিলে তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রকে শুধু দখল করে নাই বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। তার চেয়েও বড় কথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ, দেশের সমস্ত সম্পদ এদেরকে ঢেলে দেওয়া হয়েছে। উজাড় করে দেওয়া হয়েছে।’ বলেন এইচ টি ইমাম।
’৭৫ সালের পর বাংলাদেশের অবস্থা বর্ণনা করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের চারদিকে তাকিয়ে দেখুন। বাংলাদেশে যারা বিরোধিতা করে, বড় বড় সমস্ত মানুষগুলো, যাদেরকে আপনারা মনে করেন বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, বিশাল একেকজন ধনপতি; কীভাবে হয়েছে? কল-কারখানা-ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্স তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে যাও, টাকা লাগবে না। এই যে ফুলে ফেঁপে ওঠা মানুষগুলো এই লোকগুলোই তারা যখন রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের হাতে পেয়েছে, তখন ১৯৭৫-এর অগাস্টের পরে থেকে আপনারা একটানা যদি ধরে আসেন ১৯৯০ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের আমলে পুরো সময়টা ধরে নিজেদেরকে শক্তিশালী করেছে। শক্তিশালী হতে হতে তারা ধরে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ আজ কোনো দিনও ক্ষমতায় আসবে না।’
আশির দশকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার পর যেভাবে রাজনীতির হাল ধরেছিলেন, আওয়ামী লীগকে এক করেছিলেন তা বাংলাদেশের শত্রুদের জন্য বিরাট এক ধাক্কা ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। ’৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত একটি সার্থক সরকার ক্ষমতায় ছিল মন্তব্য করে এইচটি ইমাম আরো বলেন, ‘সে সময় সব ভালো ভালো কাজ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২০০১ সালের পরে বিএনপির আমলে দেশে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।’
এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আসুন, আমরা একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একইভাবে ওই একাত্তরে যেমন যুদ্ধ করেছিলাম আবার নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই পরাজিত শত্রুদের আবার বিলীন করে দেই, নিশ্চিহ্ণ করে দেই। তা না হলে এরা যতদিন থাকবে, এই বীজ থাকলে সব সময়ই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে।’
পতাকা উৎসব পালনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান এইচ টি ইমাম। একই সাথে বাংলাদেশের এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে কেউ রুখতে পারবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত বরেন তিনি।