যবিপ্রবির ২৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা
ফেসবুকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য ও অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ২৮ শিক্ষার্থীকে আসামি করে দুটি মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পক্ষে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিনুল হক আজ সোমবার যশোর কোতোয়ালি থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দুটি করেন।
আসামিরা হলেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিক রহমান, যবিপ্রবির সাবেক ছাত্র ও বর্তমান পরিবেশ গবেষক আশরাফুল আলম, স্নাতক বর্ষের ছাত্র পিয়াস বিশ্বাস, অ্যাডমিন প্যানেল নামে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী একজন, জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদল, পাভেল মাহমুদ, মাহফুজুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র বোরহান উদ্দিন, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজিবুল্লাহ শেখ নাজিম, মোহাম্মদ তাওয়াবুর, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মাহাবুবুর রহমান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের ছাত্র সাইফুজ্জামান সুজ্জল, জিন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র শরীফ আল মুতি, রাসেল উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, সরকার কৌশিক আহমেদ, কাজী লিমন আহমেদ, পরিবেশ বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র এ বি এম ফরহাদ, আসাদুজ্জামান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র রাকিব চৌধুরী, মোহাম্মদ শিম, পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র তরিকুল ইসলাম শুভ, নাজমুল হুদা নাজ এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের ছাত্র ফিরোজ মাহমুদ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদলের নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র নিরাপত্তা প্রহরী বদিউজ্জামান বাদলের ভাই শরিফুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাদলকে মারপিট করে আহত করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটির সুপারিশে যবিপ্রবির ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডে অভিযুক্ত ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদলকে সাময়িক বহিষ্কার এবং অন্য চার ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ব্যতীত ফেসবুক আইডি খুলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করা, অপপ্রচার, উসকানিমূলক বক্তব্য, শিক্ষকদের গালিগালাজ, হুমকি, অযৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে প্রচারণা এবং শিক্ষক কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করছে প্রাক্তন ও বর্তমান কিছু শিক্ষার্থী। এ অবস্থায় অভিযোগগুলো তদন্ত করে ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্ত করে তা বন্ধ এবং এসব আইডি পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার বলেন, ছাত্রদের আগেই এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা শোনেনি। ফলে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইফুল ইসলাম সজল, যশোর