নির্বাচনী সহিংসতার মামলার আসামি নিহত ব্যক্তি!
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে এক তালাচাবি মেরামতকারীকে, যিনি একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের দিন পাবনার চাটমোহরে সহিংসতার মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গুলিতে মারা যান ইমদাদুল হোসেন ইন্দা (৩২)।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষ থামাতে বিজিবি গুলি চালালে ইন্দা নিহত হন। পরদিন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ৭০০/৮০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
আজ সোমবার চাটমোহর খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চাটমোহরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন মামলার বাদী।
মামলার এজাহারে নিহত ইন্দাকে উচ্ছৃঙ্খল ও হামলাকারীদের একজন ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত ইন্দা একজন দরিদ্র তালাচাবি মেরামতকারী হিসেবে বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা কোনো প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ভোটার। ভোট গণনার পর ফল ঘোষণার সময় সৃষ্ট সহিংসতার মধ্যে তিনি প্রাণ হারান। এ মৃত্যুর ফলে তাঁর স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা আরো চার আসামি হলেন—বাহাদুরপুর গ্রামের আতিকুর রহমান (৩০), ইব্রাহিম খলিল বাগমার (৩৮), মোশারফ হোসেন ওরফে মছলু (৩০) ও দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামের সোহেল বাগমার ওরফে সোলেম (২৭)।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নিহত ইমদাদুল হোসেন ইন্দা দেশি অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেন। তাঁদের আঘাত করেন এবং নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করেন।
মামলার এজাহারে হামলাকারীদের একজন ইন্দা মারা গেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। অবশ্য মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন বাদী আলমগীর হোসেন।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা