ভৈরবে বিজয়ী প্রার্থীকে ভোট দেওয়ায় বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিজয়ী প্রার্থীকে ভোট দেওয়ায় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মাস্টারবাড়িতে হামলা চালিয়ে চারটি বসতঘর ভাঙচুরসহ লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের খাসখাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. মতিউর রহমান, মোবারক হোসেন সবুজ ও নাহিদুজ্জামান আক্তার নামের তিন প্রার্থী। নির্বাচনে নাহিদুজ্জামান আক্তার বিজয়ী হন। স্থানীয় মাস্টারবাড়ির লোকজন বিজয়ী প্রার্থী নাহিদুজ্জামান আক্তারকে ভোট দিয়েছেন, এই অভিযোগ এনে পরাজিত প্রার্থী মোবারক হোসেনের ভগ্নিপতি আতিকের নেতৃত্বে মাস্টারবাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, নির্বাচনী ফলাফল জানার পরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আতিকের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে চার থেকে পাঁচটি বসতঘর ভাঙচুর করে। হামলার সময় মাস্টারবাড়ির পুরুষরা নির্বাচনী কেন্দ্রে থাকায় বাড়িতে থাকা নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এ সময় ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে হামলাকারীরা একটি কালার টিভি, ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, দুই লাখ ৪৮ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোনসহ বিভিন্ন দামি আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

হামলার শিকার মাস্টারবাড়ির ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পরিবার পরিজন নিয়ে আমি ঢাকায় থাকি। নির্বাচনে ভোট দিতে বাড়ি এসেছিলাম। হামলাকারীরা আমার বাংলোবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। পরে বাংলোর ভেতরে ঢুকে একটি কালার টেলিভিশনসহ স্টিলের আলমিরা ও কাঠের ওয়াডরোব ভেঙে সাত ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ ২৪ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন দামি জিনিস লুট করে নিয়ে গেছে।’
জিয়াউর রহমান সবুজের ভগ্নিপতি আতিক তাঁকে ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা করতে দেবেন না এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
ওই বাড়ির বিধবা আছমা বেগম বলেন, ‘কিছুদিন পর আমার মেয়ের বিয়ে। আমি মেয়ের জন্য তিন ভরি স্বর্ণালংকার বানিয়ে রেখেছি। আর বিয়ের জন্য ২৪ হাজার টাকাও গচ্ছিত রেখেছিলাম। হামলাকারীরা আমার ঘরটিও ভাঙচুর করে করে সেই স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।’

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব