‘একটু ওয়েট কর, তোর জীবন শেষ’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যার ১৬ দিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার দুপুর পৌনে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুব আলম প্রদীপকে এ হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার সন্ধ্যায় ওই শিক্ষক থানায় এসে জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মো. মাহবুব আলম প্রদীপ বলেন, “আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে ফোন থেকে নয়, সম্ভবত কোনো সফট্য়ার কিংবা অন্য কোনো (+৮১৭৭৪৭৯) কিছু থেকে ফোন আসে। সেখান থেকে শুধু এইটুকু বলল, ‘তোর জীবন শেষ, অনেক বেড়ে গেছিস, একটু ওয়েট কর’। আমি তখন বললাম আপনি কে বলছেন? একই কথা দুইবার রিপিট করল, পরে ফোনটা রেখে দিল।”
মাহবুব আলম আরো বলেন, ‘বিষয়টি শুনে প্রথমে আমি আমার দেশের বাইরের বন্ধুদের ফোন দেই। তাদের কাছে বললাম, এ রকম ঘটনা। তোমরা কেউ ফোন দিয়েছ কি না? তখন তারা না বলল। পরে বিষয়টি রাবি শিক্ষক সমিতি ও প্রক্টরকে জানাই। পরে তাদের পরামর্শে থানায় বিকেল ৫টায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘আমি ওই শিক্ষককে থানায় জিডি করতে বলেছি। পুলিশকেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।’
এর আগেও বিভিন্ন সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ (ভিসি) অর্ধশত শিক্ষক হুমকি পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে অনেকে থানায় জিডিও করেছেন। কিন্তু পুলিশ হুমকিদাতাদের ধরতে সক্ষম হয়নি।
সর্বশেষ গত ২ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিকসহ ১০ বিশিষ্টজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল নাটোর প্রেসক্লাবে। ইসলামি লিবারেশন ফ্রন্ট (আইএলএফ) নামের একটি সংগঠনের প্যাডে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ময়েজুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস, ভেটেরিনারি সায়েন্সের অধ্যাপক কামরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অধ্যাপক শফিকুন্নবী সামাদী, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আকতার ফারুক ও অধ্যাপক আজাহার আলী, মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ কে এম গোলাম মালেক, অধ্যাপক শারমিন হামিদসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কখনো আনসার আল-ইসলামের নামে, কখনো সর্বহারার নামে, কখনো লালবাহিনীর নাম ব্যবহার করে চিঠির মাধ্যমে এসব হুমকি দেওয়া হয়। আবার কখনো হুমকির জন্য মোবাইল ফোনও ব্যবহার করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সংস্কৃতিমনা অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে তাঁর বাড়ির মাত্র ৫০ গজ দূরে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
হত্যার পর কথিত জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দায় স্বীকার করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এঁদের মধ্যে তিনজনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

রাবি সংবাদদাতা