শ্রম খাত নিয়ে বাংলাদেশকে আরো কাজ করতে হবে : যুক্তরাজ্য
দেশে প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষ শ্রম খাতে যোগ দেয়। যুক্তরাজ্য মনে করে, শ্রম খাতের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশকে আরো কাজ করতে হবে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি)-এর স্থায়ী সচিব মার্ক লোকক।
মার্ক লোকক বলেন, গার্মেন্টস খাত যেখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে অন্যান্য খাতের গতিশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নারী ক্ষমতায়নের জন্য গার্মেন্টস খাত খুব গুরুত্বপূর্ণ।
রানা প্লাজায় দুর্ঘটনায় শিকার ব্যক্তিদের যথাসময়ের মধ্যেই পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা প্রয়োজন বলে মনে করেন লোকক। তিনি বলেন, ‘রানা প্লাজা ট্রাস্ট ফান্ডে সাহায্য করার কথা এবং দায়িত্ব নেওয়ার কথা আমরা যুক্তরাজ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বলেছি। এর মধ্যে আছে গত ৩০ এপ্রিল ওয়েস্টমিনিস্টার সভায় আলোচনা, যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিবর্গের বাংলাদেশ সফর, গার্মেন্টস বাণিজ্যসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক।
লোকক জানান, প্রিমার্ক নামে এক ব্রিটিশ রিটেইলর প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁরা গত বছর রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ১২ মিলিয়ন ডলার প্রদান করে। তিনি বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কাজ করব। যেন ক্ষতিপূরণ পেতে শ্রমিকদের সুবিধা হয়।’
শ্রম উন্নয়নে ডিএফআইডি দক্ষতা এবং পেশাগত উন্নয়নে কর্মসূচির আয়োজন করেছে। প্রায় এক লাখ মানুষকে বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে এ সংস্থা। এ ছাড়া দেশের বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে ডিএফআইডি। যার মাধ্যমে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। লোকক বলেন, ‘কার্যকর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে এ সহযোগিতা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’
২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য থেকে নিরাপদ ভবন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঢাকায় এসেছিল। এ ছাড়া ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে আয়োজিত পরিদর্শন সংস্কার শীর্ষক সেমিনারে বাংলাদেশ সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে অংশ নিতে সহযোগিতা করে। লোকক বলেন, ‘সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জ্ঞান বিনিময়ের মতো কর্মসূচির আয়োজন আমরা করব।’
কারখানা ভবন পরিদর্শন, শ্রম খাত পরিদর্শন, পরিদর্শনে দক্ষতা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে নির্দেশিকা প্রণয়ন, রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার বিষয় ডিএফআইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
লোকক বলেন, ‘রানা প্লাজার পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ৬৫ শতাংশ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও অগ্নিব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ১৭৮ জন নতুন শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ করেছে সরকার। একই সঙ্গে ৩০০ নতুন ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে।’ তবে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে বলে জানান লোকক। দেশের শ্রম আইন বিষয়ে কাজ করার অনেক কিছু আছে বলে জানান তিনি।
লোকক বলেন, ‘বাকি থাকা অন্যান্য কারখানায় পরিদর্শন সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এরপরই ত্রুটিগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ ফান্ডের উন্নয়ন নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।’

অনলাইন ডেস্ক