দুই বছরে সুন্দরবনের ৩৫ ‘জলদস্যু’ নিহত
সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে গত দুই বছরে ৩৫ জন ‘জলদস্যু’ নিহত হয়েছে। আটক হয়েছে ৬১১ জন ‘জলদস্যু’।
আজ মঙ্গলবার খুলনা সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।
র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত ষষ্ঠ টাস্কফোর্সের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘গত দুই বছরে র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, নৌপুলিশ এরা সবাই মিলে একক অভিযান করেছে এক হাজার ৩৩৭টি। যৌথ অভিযান করেছে ১৭৭টি। গ্রেপ্তার করেছে ৬১১ জন জলদস্যুকে। এ সময় ৩৫ জন নিহত হয়েছে।’ এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি জানান।
বেনজীর আহমেদ আরো বলেন, ‘সুন্দরবনে বন বিভাগের যে ৭২টি ক্যাম্প রয়েছে তা সুসজ্জিত না। আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সামর্থ্য নেই। সরকার ইউএসএআইডির সহায়তায় প্রকল্প নিয়েছে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। যখন এ ৭২টি ক্যাম্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে সে সঙ্গে আমাদের সক্ষমতা যুক্ত হবে।’
নিরাপত্তার জন্য জেলেদের নৌকায় ওয়ারলেস সেট রাখার পরামর্শ দেন র্যাবের মহাপরিচালক।
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আজকের বৈঠকে সুন্দরবনে জলদস্যু নির্মূল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনে মৎস্য আহরণের নৌকায় ওয়ারলেস থাকলে তারা সহজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করতে পারে।’
র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘বাঘ নিধন বন্ধে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে বাঘ রক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সুন্দরবনে যারা আগুন দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করা হবে।’
বেনজীর আহমেদ জানান, র্যাব সদর দপ্তরে সেন্ট্রাল কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে জলদস্যু বা বনদস্যু দমন সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, তথ্য সংগ্রহ অভিযোগ গ্রহণ এবং সে পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা