বাংলাদেশের জনগণের আজ গর্বের দিন, আনন্দের দিন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা গর্বের দিন, আনন্দের দিন। আওয়ামী লীগ সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সফল পরিণতি লাভ করছে। আমরা পরমাণুযুগে প্রবেশ করেছি।
পাবনার ঈশ্বরদীর প্ল্যান্টে আজ বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) ভার্চুয়ালি ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় চার নেতা ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। একইভাবে রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি; যাঁরা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশ গঠনে সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের স্বপ্নের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া ও বাংলাদেশ গত কয়েক বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর রাশিয়া সফরে গিয়ে এ প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়েছেন। সেখান থেকে এসে তিনি এ প্রকল্পের দায়িত্ব দেন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে। ১৯৯৬ সালে আমরা জ্বালানি খাতকে এগিয়ে নিতে কর্মপরিকল্পনা নিয়েছিলাম। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর আবার পরিকল্পনা নিয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় বন্ধুপ্রতীম রাশিয়া আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছে। তাই রাশিয়ান ফেডারেশনের সবাই বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।”
প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা পরমাণু শক্তি সম্পূর্ণ শান্তিপূ্র্ণ কাজে ব্যবহার করব। এ বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব। তাই এটি রক্ষায় আমরা আইন প্রণয়ন করেছি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) জ্বালানি ইউরেনিয়াম রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে চালু হবে। ফেডারেশন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। তিনি উপস্থিত থেকে জ্বালানি ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করায় বাংলাদেশ সম্মানিত বোধ করছে।”
পারমাণবিক শক্তি শান্তিরক্ষায় ব্যবহার করব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নির্মূল এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। আমরা বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেছি। একটি স্বাধীন পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই কর্তৃপক্ষ আইএইএ'র (আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি এজেন্সি) সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।’