বিএনপিকে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে, সংবিধানে লেখা নেই : আওয়ামী লীগ
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করতে হবে, সংবিধানের কোথাও এ কথা লেখা নেই। পৃথিবীর কোনো আইনেও লেখা নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমরা দেখেছি, নির্বাচনের সময় অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না। সুতারং, যেসব রাজনৈতিক দলের সক্ষমতা নেই, যাদের জনসমর্থন নেই, জনগণের প্রতি যাদের আস্থা নেই, তারা তো নির্বাচনে আসবেই না।’
আজ শনিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ফারুক খান।
আজ সকালে নিবন্ধিত ২২ দলের সঙ্গে ইসির সংলাপে বসার কথা থাকলেও এতে ১৩টি দল অংশগ্রহণ করে। বাকি নয়টি দল আলোচনায় অংশ নেয়নি।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচন কমিশন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সরকার তাতে সহায়তা করছে। ইতোমধ্যে সরকার থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য ৮২টি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেগুলো ইসি বাস্তবায়ন করছে। এসবের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে, ব্যালট পেপারের পেছনে সিল এবং স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে নির্বাচন আরও অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদেরকে ব্রিফ করেছে। এর মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আমরা আশা করছি।’
বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অবশ্য কমিশনকে অবহিত করেছে, নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনো নির্বাচনে অরাজকতা করে না। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট প্রয়োগ করবে। যেসব রাজনৈতিক দল নামসর্বস্ব, যাদের ভোটার নেই, তারাই কেবল এ ধরনের কথা বলতে পারে।’
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বর্জন করে বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে এটিকে আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি সহিংসতাপূর্ণ। এটাকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বলা যেতে পারে না। তারা সন্ত্রাসী দলের মতো কর্মসূচি দিচ্ছে। নির্বাচনের সময় যেকোনো রাজনৈতিক দল যদি অরাজকতা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ও নেবে।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসির চিঠি রিসিভ করার জন্য একজনকেও পাওয়া যায়নি, এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘আমি তো মনে করি, এটা বিএনপির জন্য লজ্জাজনক ব্যাপার। তারা অফিসে থাকবে না কেন? বিএনপি যে কর্মসূচি দিচ্ছে, এগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। এসব সহিংসতামূলক কর্মসূচি।’
কয়েকদিন পর তফসিল হবে, এর মধ্যে বিএনপি যদি এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখে, এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘ইসি নিজেই এটা জানে এবং কখন কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সে ব্যাপারে ইসি অবগত রয়েছে। ইতোমধ্যে ইসি এসব ব্যাপারে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে।’
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে, আওয়ামী লীগ এটা মনে করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আছে। আগামীতে এটা আরও ভালো হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক