আহত ৫০ মৌসুমি কসাই ঢামেক হাসপাতালে

কারও কেটেছে হাত, কারও পা। কারও হাত-পায়ের রগ কেটেছে। কেউ আবার এসেছে গরুর আঘাতে হাত-পা দুটোই ভেঙে। আজ শনিবার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে রোগী এসেছে ৬৫ জন। এর ভেতর অন্তত ৫০ জনই মৌসুমি কসাই।
শনিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, পুরো কক্ষ মৌসুমি কসাইতে ভরা। সকাল থেকে জরুরি বিভাগের অধিকাংশ রোগীরই হাত-পা কাটা। রোগীর তথ্য লিখে রাখা খাতায় ৬৫ জন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের কক্ষে রোগী আর তাদের স্বজন দিয়ে ভরা। নিরাপত্তাকর্মীরা বারবার স্বজনদের জরুরি বিভাগের কক্ষ থেকে চলে যেতে বলছেন। কারণ, ছোট একটি কক্ষে মানুষের ভিড়ে ঠিকমতো রোগীই যেতে পারছে না।
বেলা ১১টার দিকে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে ঢামেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ৬৫ জন রোগী এসেছে জরুরি বিভাগে। এদের ভেতর অন্তত ৫০ জন মৌসুমি কসাই।
এ চিকিৎসকের ধারণা, সময় যত গড়াবে, এ ধরনের রোগীর সংখ্যা তত বাড়বে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সাধারণত এ ধরনের রোগী আসতে থাকে।
জরুরি বিভাগের ২০৪ নম্বর কক্ষে চিকিৎসক আছেন কয়েকজন। তারা কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে চাননি। তাদের ভাষ্য, তথ্য দেবেন পরিচালক বা আরএস। কিন্তু, আরএসকে তার কক্ষে পাওয়া যায়নি।
ওই চিকিৎসকের ধারণা, সন্ধ্যা পর্যন্ত কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০ জন মৌসুমি কসাই গরু জবাইসহ কাটাকাটি করতে গিয়ে আহত হয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসবে। কয়েকজনকে দেখলাম গরুর গুতা খেয়ে এসেছেন। হাত-পাও ভেঙেছে অনেকের। কারও হাতের রগ কেটে গেছে।
মহাখালী থেকে আসা আক্কাস আলী (৩৯) হাতের রগ কেটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, মাংস কাটার সময় দা স্লিপ করে হাতে লেগেছে। হাতের রগ কেটে গেছে।
রামপুরা থেকে এসেছেন ৫৬ বছর বয়সী আমিনুল হোসেন। তিনি পায়ের আঙুল কেটে এখানে এসেছেন। আমিনুল বলেন, মাংস কাটতে গিয়ে রামদা মাংস কাটার কাঠ থেকে সরে পায়ে লেগেছে। ভালো কাটতে পারি না বলে এমন হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, অন্তত ৫ জন চিকিৎসক ও কয়েকজন নার্স মিলে সেবা দিচ্ছেন রোগীদের। এসব চিকিৎসক ও নার্সদের দাবি, সকাল ৮টার পর থেকে বেশি রোগী আসা শুরু করেছে। সময় যত গড়াবে, এ ধরনের রোগীর সংখ্যা তত বাড়বে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের দিন এ ধরনের রোগী বেশি আসে।
দেখা গেছে, জরুরি বিভাগের মধ্যে একের পর এক রোগী আসছেন। যাদের অধিকাংশই হাত-পা কাটা রোগী। জরুরি বিভাগের মধ্যে রোগীর চাপ এত বেশি যে, রোগীর স্বজনকে ভেতরে থাকতে দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এসব রোগীদের কারও অস্ত্রোপচার করা লাগছে। কারও আবার হাত-পায়ের রক্ত পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সবুজ হোসেন (৩৫) বলেন, গরু কাটা প্রায় শেষ। দা দিয়ে কোপ দিয়েছি হাড়ে। হঠাৎ হাত থেকে দা সরে গিয়ে পায়ের ওপর এসে পড়েছে। বেঁচে যে আছি সেটাই সৌভাগ্য। তবে, খারাপ লাগছে না একদমই। আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজ করতে গিয়ে জখম হয়েছি, আল্লাহই সব ঠিক করে দেবেন।
কলাবাগান থেকে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রশিদ আলম বলেন, গরুর মাংস কাটতে গিয়ে আঙুল কেটে পড়ে গেছে। কখনও এসব করা হয় না বলে এমন ঝামেলা হয়েছে। তাই দেরি না করে দ্রুতই চলে এলাম হাসপাতালে।