পার্থ দম্পতির রয়েছে ১৬০ ভরি স্বর্ণ
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কাছে হলফনামা দাখিল করেছেন এবং তার হলফনামা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্দালিব রহমান পার্থের নামে ১০টি মামলা রয়েছে । ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে আটটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন এবং দুটি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে। সবগুলো মামলাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তার বর্তমান পেশা হিসেবে আইনপেশা, অধ্যক্ষ, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসা দেখিয়েছেন। তার স্ত্রী পেশায় একজন গৃহিণী। পার্থ দম্পতির ১৬০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। এরমধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থের ১০০ ভরি এবং স্ত্রী শেখ সায়রা শারমিনের ৬০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
হলফনামায় আন্দালিব রহমান পার্থ বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় সাত লাখ ৫২ হাজার ১০৭ টাকা এবং আইন পেশা ও শিক্ষকতা থেকে আয় ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৫ টাকা। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ টাকা।
তাঁর স্ত্রী শেখ সায়রা শারমিনের নামে রয়েছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর আগে স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ দেখাননি তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া যায়।
হলফনামায় আন্দালিব রহমান পার্থ উল্লেখ করেছেন, তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ৭৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ৭১ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৮ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকার।
আন্দালিব রহমান পার্থর মোটরযান রয়েছে ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের। ব্যাংকে থাকা টাকার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে নিজ নামে রয়েছে আট লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৬ টাকা, তাঁর পরিচালিত ব্রিটিশ স্কুল অব ‘ল’ নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে এক লাখ ৫৮ হাজার ১৯২ টাকা, আন্দালিব রহমান ফার্ম অ্যান্ড ফিশারিজ নামে ব্র্যাক ব্যাংকে ৩৭ লাখ ৫০০ টাকা, নিজ নামে ব্র্যাক ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্টে ২৫ লাখ টাকা।
দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটি এন.পি.বি. রিভলবার ও একটি ২২ বোর রাইফেল রয়েছে।
তাঁর অস্থাবর সম্পদ অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন দুই কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার ১২ টাকা। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে কোনো কৃষিজমি নেই। অকৃষি জমির মধ্যে নিজ নামে ৪.৪৩ শতাংশ, যৌথ মালিকানায় ১৩.২৯ শতাংশ। যৌথ মালিকানায় ঢাকায় তিনতলা একটি দালান ও তিনতলা একটি বাড়ি রয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে আয় দেখিয়েছেন ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা ও রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০ টাকা।
আয়কর দিয়েছেন আট লাখ সাত হাজার ৪৩৬ টাকা। তাঁর বড় মেয়ে মাহাম সানজিদা রহমানের নামে ব্যাংকে রয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ১৯৩ টাকা।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। সে সময় হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক