প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১ জন, পেয়েও হারালেন একজন
চারিদিকে নির্বাচনি ডামাডোল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট। এ ডামাডোলের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানি চলছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। শুনানির প্রথমদিনে শনিবার (১০ জানুয়ারি) ৭০টি আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে ইসি। এর মধ্যে ৫২টি আপিল আবেদন মঞ্জুর, ১৫টি না-মঞ্জুর এবং তিনটি বিবেচনাধীন (পেন্ডিং) রাখা হয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির শুনানিতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা অংশগ্রহণ করেন। শুনানিতে কোনো সম্ভব্য প্রার্থী তার প্রার্থিতা পেলে সেখানে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস করতে দেখা গেছে। আর অবৈধ ঘোষিত মনোনয়নপত্র পুনরায় বিবেচনায় নিয়ে বৈধ ঘোষণা না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তাদের প্রস্তাবক-সমর্থকরা মন খারাপ করছিলেন। কোনো কোনো প্রার্থী শুনানিতে কেঁদেও ফেলেন। এমন পরিবেশ তৈরি হলে নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়, এটা আবেগের নয়, তথ্যপ্রমাণের ব্যাপার।
এর আগে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা ও ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। মঞ্জুরকৃত ৫২টি আবেদনের মধ্যে বাতিলের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে ৫১টি। অর্থাৎ, আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বাছাইয়ে বাদপড়া ৫১ জন প্রার্থী। বাকি একটি আপিল মঞ্জুর হয়েছে মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ কে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
এ ছাড়া না-মঞ্জুর হওয়া ১৫টি আপিলের মধ্যে দুজন আপিলকারী শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের আপিল বাতিল করে দেয় ইসি।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে দুই দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রথম দিনের আপিল শুনানি চলে। দুই দফায় চলা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে চার নির্বাচন কমিশনার যোগ দেন। এ সময় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
সরেজমিন দেখা যায়, শুনানিতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখাতে পারায় অনেক প্রার্থী প্রার্থিতা ফেরত পান। অপরদিকে, যারা প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত দেখাতে পারছেন না, তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে। এই যেমন, গণঅধিকার পরিষদের পাবনা-৩ এর প্রার্থী মো. হাসানুল ইসলামের কর না দেওয়ার অভিযোগে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষে পাবনার অতিরিক্ত জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আবু সাইদ বলেন, ‘প্রার্থী সরকারের ৭৩ লাখ ১২ হাজার ৯৮৪ টাকা জমা দেননি। আমাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞেসা করলে তিনি জানান, তিনি জমা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। যার কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।’
রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রার্থী হাসানুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, ‘আমি সবগুলো অর্থবছরের কর পরিশোধ করেছি। আমি একদম আপগ্রেড আছি। তবে ২০১৪-১৫ কর বর্ষের বকেয়ার পরিমাণ এত টাকা এবং ২০১৮-১৯ কর বর্ষে বকেয়ার পরিমাণ এত টাকার বিপরীতে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
এ সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসুউদ কর কবে পরিশোধ করেছে জানতে চাইলে প্রার্থী বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০২৫ সালের সব অর্থবছরের কর পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু দুইটা আপিল রয়েছে।’
এ সময় নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আপিল গৃহীত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রার্থী তেমন কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তিনি জানান, আপিল চলমান।
পরবর্তীতে প্রার্থীর কাছে কর পরিশোধের কাগজ চাওয়া হলে প্রার্থী দিতে না পারায় প্রার্থীর আপিল না-মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। একই চিত্র দেখা গেছে, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নরসিংদী-৫ আসনের প্রার্থী মশিউর রহমানের ক্ষেত্রে। প্রার্থীর কৃষি ব্যাংকে ঋণ রয়েছে বলে অভিযোগ করে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ওই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা ডা. তাসনিম জারা করা আপিল শুনানি হয়। এতে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। পরে তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন সাংবাদিকদের কাছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে আপিল মঞ্জুর হয়েছে। দেশে-বিদেশে সবাই দোয়া করেছেন। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ। নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ-৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের মামলার তথ্য গোপনের বিষয়ে শুনানি শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও জাতীয় পার্টির ১২ জনসহ বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নও বৈধ হয়েছে।
শুনানিতে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিন আপিল নম্বরের ক্রম অনুযায়ী ১ থেকে ৭০টি আপিলের শুনানি চলে। এতে প্রার্থী অথবা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আসা আইনজীবীরা স্ব স্ব আপিলের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে রায় ঘোষণা করেন সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা। প্রতিটি আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন করা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে রায়ের পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে রায়ের অনুলিপি সংগ্রহ করা যাবে বলে ইসি জানিয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৭০টি করে আপিলের শুনানি করবে ইসি।
গত সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন গ্রহণ চলে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে। অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথে পাঁচ দিনে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইকালে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পক্ষে তিনটি আসনে দাখিল করা তিনটি মনোনয়নপত্র বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম শেষ করা হয়।
ইসির শুনানিতে জাতীয় পার্টির ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। তারা হলেন—গাজীপুর-৫ আসনের সফিউদ্দিন সরকার, চাঁদপুর-১ হাবীব খান, নরসিংদী-১ মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ছালাউদ্দিন খোকা, ঝালকাঠি-১ কামরুজ্জামান খান, শরীয়তপুর-৩ আবদুল হান্নান, মাগুরা-২ আসনে মশিয়ার রহমান, নড়াইল-২ আসনে খন্দকার খালেকুজ্জামান, খুলনা-৫ শামীম আরা পারভীন, কুড়িগ্রাম-২ পনির উদ্দিন আহমদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ খুরশীদ আলম এবং গাজীপুর-১ শফিকুল ইসলাম।
এদিন নিজ দলের প্রার্থীদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিলের শুনানিতে অংশ নেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় মবের দৌরাত্ম্য সুষ্ঠু ভোটের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসিকে মব দমন করতে হবে। মব দমন না কররে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ইসির দাঁত আছে। শুধু দাঁত থাকলে হবে না, দাঁতসহ কামড় দিতে হবে। ইসিকে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এখন যে সরকার আছে, সেই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আরও যারা ফিরে পেলেন প্রার্থিতা
শুনানিতে ফেনী-১ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৪ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন রেজা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৫ স্বতন্ত্র শেখ মুজিবর রহমান ইকবাল; কিশোরগঞ্জ-১ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ আলী, নেত্রকোনা-৪ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির চম্পা রাণী সরকার, পঞ্চগড়-১ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির আল রাশেদ প্রধান, নরসিংদী-৫ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৪ স্বতন্ত্র কাজী রেহা কবির, হবিগঞ্জ-৪ এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, গাইবান্ধা-১ স্বতন্ত্র মোস্তফা মহসিন, হবিগঞ্জ-১ জাসদের কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, বগুড়া-৬ বাসদের দিলরুবা, নরসিংদী-২ ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহীম, দিনাজপুর-৬ স্বতন্ত্র শাহনেওয়াজ ফিরোজ, ঢাকা-১৮ বাসদের সৈয়দ হারুন অর রশীদ, গোপালগঞ্জ-২ স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, রংপুর-৪ স্বতন্ত্র শাহ আলম বাসার, শরীয়তপুর-১ স্বতন্ত্র গোলাম মোস্তফা, শরীয়তপুর-১ স্বতন্ত্র সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি শামীম আহমেদ, টাঙ্গাইল-১ স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আলী, শরীয়তপুর-১ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নূর মোহাম্মদ মিয়া, ফরিদপুর-৪ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান, গাজীপুর-২ স্বতন্ত্র সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-৫ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রহুল আমিন, চট্টগ্রাম-১১ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেল নূর উদ্দিন, রাজশাহী-৫ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আলতাফ হোসেন মোল্লা, কুমিল্লা-১ বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বড়ুয়া মনোজিত ধীমন, লালমনিরহাট-১ স্বতন্ত্র রেদওয়ানুল হক, ঢাকা-১৮ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনোয়ার হোসেন, চাঁদপুর-২ ইসলামী আন্দোলনের মানসুর আহমদ সাকী, মাদারীপুর-২ স্বতন্ত্র কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, বগুড়া-৩ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহজাহান তালুকদার এবং কুমিল্লা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের আবদুল হক আমিনীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়।
মনোনয়নপত্র বাতিল যাদের
মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি রেলের টিকিট নিয়ে আন্দোলন করে পরিচিতি পাওয়া ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন হাওলাদার (মহিউদ্দিন রনি)। শনিবার শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বাতিলের আদেশ বহাল রাখে ইসি। এর আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তথ্যে অসামঞ্জস্যতা ও গরমিলের অভিযোগে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রনির মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন—নড়াইল-১ আসনে স্বতন্ত্র উজ্জল মোল্লা, বাগেরহাট-১ ইসলামী আন্দোলনের মুজিবুর রহমান শামীম (ঋণখেলাপি হওয়ায়), নরসিংদী-৪ বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজি শরীফুল ইসলাম (হলফনামায় অসামঞ্জস্যতা), রংপুর-১ জাতীয় পার্টির মঞ্জুম আলীর (দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে), খুলনা-৬ স্বতন্ত্র আছাদুল বিশ্বাস (ভোটার সমর্থন প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায়), ঢাকা-৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন (ভোটার সমর্থনে অসামঞ্জস্যতা), ঢাকা-৩ জাতীয় পার্টির মো. ফারুক, কক্সবাজার-৩ স্বতন্ত্র ইলিয়াছ মিয়া, ব্রাহ্মবাড়িয়া-৫ স্বতন্ত্র মুছা সিরাজী, নাটোর-১ খেলাফত মজলিসের আজাবুল হক (দ্বৈত নাগরিকত্ব), পাবনা-৩ গণঅধিকার পরিষদের হাসানুল ইসলাম, কুমিল্লা-১ স্বতন্ত্র আবু জায়েদ আল মাহমুদ (ভোটার সমর্থন প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায়), খুলনা-৩ স্বতন্ত্র আবদুর রউফ মোল্লা (শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায়) এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অনুপস্থিত থাকায়)।
বিবেচনাধীন আপিল
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন, পটুয়াখালী-৩ স্বতন্ত্র মিজানুর রহমান বাবু মনোনয়ন এবং যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র কামরুজ্জামানের আপিল আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। এই তিনজনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ফের শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সময় দিয়েছে ইসি।
১০ জানুয়ারি ১ থেকে ৭০ সিরিয়াল পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি করে ইসি। রোববার (১১ জানুয়ারি) ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী আপিল শুনানির তারিখ শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

মাসুদ রায়হান পলাশ