দিনে রোদের ছোঁয়া, রাত হলেই বাড়ে শীত
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে দিনে হালকা রোদ ও কুয়াশার খেলা চললেও রাত নামলেই হাড়কাঁপানো শীতের অনুভূতি বাড়তে শুরু করে। টানা সাত দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড হওয়ায় শীতের দাপট কিছুতেই কমছে না।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সাত দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় আট থেকে ১০ কিলোমিটার।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই এই জনপদে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল আট ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শুক্রবার জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছয় দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
টানা শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জেলার হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক শিশু ও বয়স্ক মানুষ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর অস্বাভাবিক চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে হিম সকালেই কাজে বের হতে দেখা গেছে পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষকে। বিশেষ করে পাথর শ্রমিকদের নদীর বরফশীতল পানিতে নেমেই কাজ শুরু করতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ভোরে কুয়াশা থাকলেও সকালের দিকে সূর্যের দেখা পাওয়ায় দিনের বেলা শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে। তবে রাত ও ভোরে হিমেল বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

ফাহিম হাসান, পঞ্চগড় (সদর-আটোয়ারী-বোদা)