সিলেটে নারী চিকিৎসককে হেনস্তা : দোষীদের শাস্তির দাবি বিএনপির
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের দ্বারা সংঘটিত ভাঙচুর, সহিংসতা ও কর্তব্যরত নারী চিকিৎসককে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
শুক্রবার (রাত আনুমানিক ১২টার দিকে) সংঘটিত এ ঘটনায় হাসপাতালের শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
এক বিবৃতিতে রফিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসাসেবা একটি সর্বোচ্চ মানবিক ও নৈতিক দায়িত্বপূর্ণ পেশা। সেই পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর চালানো, দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক—বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসককে হেনস্তা করা এবং কর্তব্যরত তিনজন ওয়ার্ড বয়কে আহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ডা. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা ও স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণেই আজ হাসপাতালগুলো নিরাপদ আশ্রয়স্থল না হয়ে ভয়ের জায়গায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে—এমন আশা করা অবাস্তব।
বিশেষ করে নারী চিকিৎসকের প্রতি হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, কর্মস্থলে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রযন্ত্র চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার দায় সরকার এড়াতে পারে না।
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সেসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রোগী বা রোগীর স্বজনদের যদি দায়িত্ব অবহেলার কোনো অভিযোগ থাকে, তা নিষ্পত্তির জন্য বিএমডিসিসহ সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু সে পথ অনুসরণ না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন এবং রোগী ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও এখনও তার বাস্তব প্রয়োগ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ করতে সব স্টেকহোল্ডারের (অংশীদার) সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
রফিকুল ইসলাম অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব দোষীর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে ডা. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক