জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন : আলী রীয়াজ
রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে তৈরি জুলাই সনদের আলোকে সংস্কারের পক্ষে গোলাপি ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট এবং সাদা ব্যালটে ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ তৈরির যে সম্ভবনা উপস্থিত, তা অকস্মাৎ আসেনি, অনেক রক্ত অনেক প্রাণ অনেক নিপীড়ন, অনেক পরিবারের হাহাকারের মধ্য দিয়ে এসেছে। আসুন সেই ঋণ স্বীকার করি, তাহলে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহে তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আলী রীয়াজ। বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশেবিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে ফজলুল হক, ময়মনসিংহ পুলিশের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়াসহ অন্যান্যরা। মতবিনিময় সভায় চার জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ,সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ বলেন, হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে সবকিছু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই দায়িত্ব এখন জনগণের ওপর। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সনদ তৈরি করা হয়েছে, তারপরেও যারা রাজনীতি করেন না, তাদের সম্মতির প্রয়োজনেই গণভোট করা হচ্ছে। আমাদের চেষ্টা হচ্ছে যেন এক ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ শাষিত না হয়। জবাবদিহিতার জায়গাটা যেন তৈরি হয়, স্বাধীন বিচার বিভাগ তৈরি করা যায়, জনগণের জন্য যেন ইনসাফের দরজাটা খোলা যায়, সেজন্য গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি, নিশ্চিত সাফল্য অবশ্যই আসবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, দেশের চাবি আপনার হাতে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দেশের মালিক জনগণ। সেই মালিকানার চর্চার জায়গা হচ্ছে এই গণভোট। সবাই মিলে চেষ্টা করলে সাফল্য অর্জন করা যাবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আরও বলেন, সনদের লেখা কালো অক্ষরে ছাপা হলেও প্রকৃত অর্থে লেখা হয়েছে রক্ত দিয়ে। প্রতিটি শব্দ রক্ত দিয়ে লেখা। যারা রক্ত দিয়ে দেশের মানুষকে শিখিয়ে গেছে, তাদের কথিত নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এই সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, তবু কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে না।
আলী রীয়াজ বলেন, সাদা ব্যালেটে পাঁচ বছরের জন্য সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনখুলে ভোট দেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরাও ভোটার। আপনাদের রাজনৈতিক পক্ষপাত থাকতে পারে। নাগরিকদের উৎসাহিত করুন, যেন সাদা ব্যালটে তাদের রাজনৈতিক পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন। গেলাপি ব্যালটে ভোট দেবেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র কীভাবে সংস্কার করতে চান, গোলাপি ব্যালট রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা তৈরি করে দেবে। সরকারে কে এলোগেল সেটা বিবেচ্য নয়, সবাইকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ সনদকে না বলার কারণ নেই। এ সনদ সরকারের তৈরি করা নয়। এটা রাজনৈতিকদল গুলোর তৈরি করা। রাজনৈতিক ঐক্যের মধ্য দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। সেটিতে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো বাধা নৈতিকভাবে নেই।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যখনই গণভোট হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার ইতিবাচক ভোটের জন্য কাজ করেছে। ইউরোপেরে দেশগুলোতে ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪৮টি গণভোট হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে। ২০১৬ সালের বেক্সিটসহ আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ