মানবতাবিরোধী অপরাধ : আপিলের অনুমতি পেলেন আবুল কালাম আজাদ
২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ এক যুগ পরে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের পর সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তার সাজা স্থগিতের আদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন আদালত। আপিল করতে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত বছর নিজের সাজা স্থগিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এই আবেদন করেন তিনি। এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন মাওলানা আজাদ আপিলের জন্য রায়ের সত্যায়িত অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মশিউল আলম।
ট্রাইব্যুনালকে আইনজীবী বলেন, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মাওলানা আজাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে দেওয়া তার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপিসহ এ মামলার প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাগজপত্র পেতে আবেদন করছি।
শুনানি শেষে তার আবেদন মঞ্জুর করে আপিলের জন্য যাবতীয় সব কাগজপত্র দেওয়ার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মানবতাবিরোধী আটটি অপরাধের মধ্যে সাতটিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তিনটিতে তার মৃত্যুদণ্ড, চারটিতে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণে সেসব অপরাধের বিষয়ে দণ্ডাদেশ দেয়নি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় সেটি খারিজ করা হয়।
আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত এ রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই পালিয়ে ভারত হয়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ করার মাধ্যমে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর এ মামলার রায় অপেক্ষমান (সিএভি) রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুরু হয় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক