গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন সরকারি কর্মকর্তারা
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোটের মার্কা টিক চিহ্নের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের আইনগত কোনো বাধা নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোকতার হোসেনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-কে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্র সংস্কারে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেছে। এ সনদ কালো কালি দিয়ে ছাপা হলেও প্রকৃত অর্থে তা লেখা হয়েছে রক্ত দিয়ে। যুবকদের রক্তে আমরা শামিল হতে না পারলেও জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-কে স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো এবারের গণভোট। জাতীয় নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষ থাকলেও গণভোটে সরকার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে কোনো বাধা নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ। এবারের গণভোট নতুন বাংলাদেশ বা নতুন বন্দোবস্তের পক্ষে জনমত যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে রায় দিলে সংবিধানে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ হবে।

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা