এক মঞ্চে ‘জনগণের মুখোমুখি’ ১০ সংসদ সদস্য প্রার্থী
সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিয়ে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে জনগণের মুখোমুখি হয়েছেন। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১০ জন প্রার্থী ভোটারদের কাছে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে হাত উঁচিয়ে এবং অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে দুর্নীতিমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতি করার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মাঝে স্থায়ী শান্তি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতায়ন এবং খাগড়াছড়িতে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়াও পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নারী ক্ষমতায়ন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রার্থীরা।
অনুষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে প্রত্যেক প্রার্থী পাঁচ মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ এর পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট না করে ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তাঁর প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সুজন জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভোটারদেরও একটি শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। সেখানে উপস্থিত নাগরিক সমাজ কালো টাকার মালিক, ঋণখেলাপি, দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য প্রার্থীদের ভোট না দেওয়ার শপথ নেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা আজকের এই আয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সনাক ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি