মা ভবানীর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমায় দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থীর ঢল
বগুড়া জেলার শেরপুরে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে ঐতিহাসিক মা ভবানীর মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বী দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) উপমহাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৫১ পীঠস্থানের অন্যতম এই মন্দিরে বসেছিল দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা পুণ্যার্থীদের মিলনমেলা।
সকাল থেকেই হাজার হাজার নারী-পুরুষ অতীত জীবনের পাপ মোচনসহ পুণ্য লাভের আশায় মন্দিরস্থলে সমবেত হয় এবং শাঁখা পুকুরে পুণ্যস্নান করতে থাকে। রাত অবধি চলে মন্দিরে রক্ষিত প্রতিমা দর্শন, পূজা-অর্চনা, ভোগদান, অর্ঘদান, মাতৃদর্শন। এ সময় মন্দিরের পক্ষ থেকে ভক্তদের মধ্যে সার্বক্ষণিক প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
গতকাল শনিবার রাত থেকেই তিথি অনুযায়ী মা ভবানীর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমার উৎসবে যোগ দিতে পুণ্যার্থীরা আসতে থাকে। এজন্য অসংখ্য দর্শনার্থী মন্দিরের অতিথিশালাসহ আশপাশের এলাকায় আত্মীয়স্বজনের বাসাবাড়িতে রাত্রি যাপন করে।
মা ভবানী মন্দির পরিচালনায় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নিমাই ঘোষ জানান, ৫৮২ খিস্ট্রাব্দে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই এই মন্দিরে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরেই ধর্মীয় তিথি অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমা উৎসব পালন হয়ে আসছে। এই উৎসবে আসা দূর-দূরান্তের পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থেকে আসা করুণা রানী বলেন, মাঘী পূর্ণিমা উৎসবে মন্দিরের শাঁখা পুকুরে পুণ্যস্নান করলে অতীত জীবনের পাপ মোচন হয়। তাই মায়ের দর্শন নিতে এখানে এসেছি। মনের আশা-বাসনা পূরণের জন্য স্নান শেষে মায়ের আশীর্বাদ নিয়েছি।
আদমদীঘি উপজেলার সীমা রায় বলেন, এখানে এলে দেহ-মন পবিত্র হয়। তাই মায়ের মন্দিরে এসেছি।
মনোবাসনা পূরণ হবে—এমন আশা নিয়ে মায়ের মন্দিরে এসেছি বলে জানান শেরপুর শহরের তিথি ঘোষ, শাহজাদপুরের দত্ত মল্লিক। একই কথা জানান নাটোরের নিপা সাহা, রাজশাহীর পল্লবী রায়সহ আরও অনেকে।
মাঘী পূর্ণিমা উৎসব কমিটি ও মন্দির পরিচালনায় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র বাবু স্বাধীন কুমার কুণ্ডু জানান, অন্যান্য বছরের মতোই সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। ধর্মীয় এই আচার-অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলও গঠন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক কাজ করছে। বিদেশি পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রায় অর্ধলাখ লোক উৎসবে যোগ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতি বছর মাঘ মাসে মাঘী পূর্ণিমার পঞ্জিকা তিথি অনুযায়ী এই পুণ্যস্থানে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শাস্ত্র্যমতে, মাঘী পূর্ণিমার দিনে এই স্থানে অংশ নিলে তার অতীত জীবনের পাপ মোচনসহ পুণ্যলাভ হয়। আর সেই আশায় দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত নর-নারী ও শিশু-কিশোর মন্দিরের শাঁখা পুকুরে স্নান করে। তবে এবারও বিদেশ থেকে তথা ভারত, নেপাল, ভুটানসহ অন্যান্য দেশ থেকে পুণ্যার্থী এসেছে। এর পরও স্থানীয় জেলা-উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধলাখ লোকের সমাগম ঘটে।

জাহিদ হাসান, বগুড়া (শেরপুর-নন্দীগ্রাম)