নওগাঁয় জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে আহত ১০
নওগাঁয় জামায়াত-বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে জামায়াতের চারজন এবং বিএনপির একজন কর্মী নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।
জামায়াতের আহত কর্মীরা হলেন, হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাটখইড় গ্রামের হাসান প্রামানিক (৩৮), একই এলাকার জাহিদ হাসান (২৫), হাসাইগাড়ী গ্রামের মোস্তাফিজুর (৫৮) এবং চকরামপুর গ্রামের রুস্তম আলী (৪০)। হাসপাতালে ভর্তি আহত বিএনপির কর্মীর নাম রাকিব হাসান (২০)। তার বাড়ি হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের গোপাই গ্রামে।
স্থানীয় ও নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, প্রচারণার অংশ হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে যান। সেখানে জামায়াতের কর্মী শহীদ মোল্লার বাড়িতে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা শেষে জামায়াত প্রার্থীসহ কর্মী-সমর্থকরা অপেক্ষা করছিল। এ সময় গোপাই গ্রামের বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তাদের খাবারের ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঘরবন্দি করে রাখে। পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
আহত বিএনপিকর্মী রাকিব হাসান বলেন, জামাতের কর্মীরা খাবার রান্না-বান্নার আয়োজন করে। আমরা দুই তিনজন রান্নার ভিডিও করতে গেলে তারা আমাদের বাধা দেয়। পরে জামায়াতের ৫০-৬০ জন এসে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। কয়েকদিন আগে আমরা আমাদের এমপি প্রার্থীর আগমনকে কেন্দ্র করে খাবারের আয়োজন করেছিলাম। সেখানে গিয়ে জামায়াতের নেতারা বাধা দেয় এবং আমাদের আয়োজন করতে দেয়নি।
আহত জামায়াত কর্মী হাসান প্রামানিক বলেন, আমাদের প্রার্থী প্রচারণা শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এ সময় পাশের এলাকার কয়েকজন ছেলে বাড়ির আশপাশে ভিডিও করে। তারা দাবি করে আমরা নাকি খাবারের আয়োজন করেছি। কিন্তু ওখানে কোনো খাবারের আয়োজন ছিল না। তারা এসব বলে পরিবেশ উত্তপ্ত করে। আমরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিএনপির কর্মীদের নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, গণসংযোগ শেষে বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী একটি বাড়িতে বিশ্রাম করছিলেন। এ সময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্দেশে পাইপ নিয়ে অতর্কিত হামলা করে। হামলায় আমাদের আটজন কর্মী আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, জামায়াতের লোকেরা হামলা করে আমাদের দুজনকে আহত করাসহ মোবাইল ফোন ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমাদের ছেলেদের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা জানতে পারি।
আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু আরও বলেন, এলাকাটি প্রত্যন্ত। কিছুদিন আগে ধানের শীষের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ওই এলাকায় প্রচারণায় গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় বিএনপিনেতা জালাল খাবারের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু জামায়াতের লোকজন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় ম্যাজিস্ট্রেট আসে। প্রায় ২০০ লোক খাবারগুলো না খাওয়ায় নষ্ট হয়ে যায়। জামায়াতের লোকজন আজ খাবারের আয়োজন করে। সেখানে আমাদের ছেলেরা গিয়ে খাবারের ভিডিও করার সময় জামায়াতের লোকজন মারধর করে এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যে যার মতো ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ