নির্বাচনি আমেজ নষ্টের অপপ্রয়াস দেখতে পাচ্ছি : সাদিক কায়েম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কয়েম নির্বাচনি আমেজ নষ্টের অপপ্রয়াস দেখতে পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গ মাইলজুড়ে একটি আমেজ তৈরি হয়েছে। সে আমেজকে নষ্ট করার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রয়াস আমরা দেখতে পাচ্ছি।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ডাকসুর ভিপি।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। বাংলাদেশের ১২ কোটি ভোটারের যে অব্যক্ত কথাগুলো, সেগুলো আমরা বলার জন্য এসেছি। বাংলাদেশের চার কোটি যে ভোটার তরুণ ভোটার আছে, তাদের কথাগুলো আমরা বলার জন্য এসেছি। গত ১৬ বছর বাংলাদেশে যারা তরুণ আছে, আমরা যারা ১৮ বছর থেকে ২৫ বছরের—এই বয়সে যারা আছে, আমরা ভোট দিতে পারিনি। সুতরাং, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গ মাইলজুড়ে একটি আমেজ তৈরি হয়েছে। সে আমেজকে নষ্ট করার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রয়াস আমরা দেখতে পাচ্ছি।
সাদিক কায়েম বলেন, সেই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে আমাদের কনসার্ন (উদ্বেগ) জানানোর জন্য আমরা আজ এসেছি। ছাত্র সমাজের যে দাবি এবং গণ মানুষের যে দাবি, সেই দাবিগুলো—সে কথাগুলো আমরা বলার জন্য এসেছি। গতকাল নির্বাচন কমিশন থেকে একটা প্রজ্ঞাপন হয়েছে। এতে বলা হয়েছে—ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে, যেখানে সেন্টার হবে, এর মধ্যে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। আমরা বলেছি, এতি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাচনের যে আমেজ তৈরি হয়েছে, তা নষ্ট করা হচ্ছে।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, নির্বাচন একটি উৎসবের জিনিস। আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব। ভোটকেন্দ্রে আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে আমরা ভোট দেব। এটি নিয়ে উৎসব করব। আমরা হুঁশিয়ার করছি—জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে এ ধরনের অপপ্রয়াস, কারচুপির নির্বাচন যদি কেউ করতে চায়, সেটা আমরা বাংলাদেশের তরুণরা বেঁচে থাকতে, জুলাইয়ের প্রজন্ম বেঁচে থাকতে হতে দেব না।
ডাকসুর ভিপি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছি, ৪০০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের ফোন ব্যবহার করা যাবে না, এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। ইতোমধ্যে কমিশন আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে, এই সিদ্ধান্ত তারা বাতিল করবেন এবং খুব দ্রুতই প্রজ্ঞাপন আসবে। আমরা এটার জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।
সাদিক কায়েম বলেন, আমরা একইসঙ্গে দাবি জানিয়েছি, বিএনসিসি প্রতিটি ক্যাম্পাসে খুবই সুসংগঠিত একটি ফোর্স। যখন ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো হচ্ছিল, তখন এই বিএনসিসির যারা সদস্য ছিল, তারা খুব প্রফেশনাল আচরণ করেছে। আনসারের চেয়ে বিএনসিসি, তাদের প্রফেশনাল আচরণ এবং তাদের ট্রেনিং অনেক বেশি সুসংগঠিত। তাই নির্বাচনে বিএনসিসিকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত যেন আবার পরিবর্তন করা হয়। একইসঙ্গে আমরা দাবি জানিয়েছি, সব রাজনৈতিক দল এবং যারা প্রার্থীরা আছে, সবার জন্য যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইনশিওর করা হয়।
ডাকসুর ভিপি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি—বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের ওপর হুমকি দেওয়া হচ্ছে, হামলা হচ্ছে, বিশেষ করে নারীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের হামলা হচ্ছে। এই হামলা বন্ধ করার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা দরকার। আমরা আশা করছি, সবাই সবার জায়গা থেকে প্রফেশনাল (পেশাদার) আচরণ করার মাধ্যমে এই নির্বাচনটি একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখব। এই নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোক, সেটা জামায়াত ইসলামী জয়ী হোক অথবা অন্য কোনো, বিএনপি জয়ী হোক; এর মাধ্যমে আমরা চাই—বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জয় হোক।
সাদিক কায়েম বলেন, এই নির্বাচনে কেউ যদি বাধা তৈরি করতে চায়, পেছন দিক থেকে কেউ যদি ক্ষমতা দখল করতে চায়, অথবা কেউ যদি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায়, আল্টিমেটলি তারা নিজেদেরই ক্ষতি করছেন। আমরা জুলাই প্রজন্ম এই রাজপথে নেমেছিলাম, আমরা সবাই সজাগ আছি। বাংলাদেশের চার কোটি তরুণ সজাগ আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক