ভয় নয়, ইনসাফ বেছে নিন : মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, এবারের লড়াই কেবল ক্ষমতা বদলের নয়, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠনের। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভয় নয়, ইনসাফ বেছে নিন। সরকার বদলালেই জনগণের মুক্তি আসে না, মুক্তি তখনই আসে যখন লুটপাট ও দমননির্ভর সিস্টেম ভেঙে ফেলা যায়।
মামুনুল হক তার ভাষণের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, শাপলা চত্বরের নিহত ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, এই মহান আত্মত্যাগ কেবল আনুষ্ঠানিক স্মরণের বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক দায়বদ্ধতার মূল ভিত্তি।
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর প্রণীত ‘জুলাই সনদ’-কে রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তব ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, এই সনদের সব বিষয়ের সঙ্গে শতভাগ ঐকমত্য না থাকলেও বর্তমান সংকটে এর চেয়ে কার্যকর বিকল্প নেই। এ কারণে তিনি আসন্ন গণভোটে জনগণকে স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভাষণে মামুনুল হক ‘অ্যামপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টিধারী কর্মসূচি’র প্রস্তাব করেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এছাড়া তরুণ উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখার কথা বলেন তিনি। বাজার নিয়ন্ত্রণে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে মামুনুল হক বলেন, খেলাফত মজলিস ক্ষমতায় গেলে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, ডিজিটাল সেবা কাঠামো ও বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও পৃথক পরিবেশ এবং সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে মামুনুল হক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘স্বায়ত্তশাসিত কওমি শিক্ষা মঞ্জুরি কমিশন’ গঠনের ঘোষণা দেন। নির্বাচনি প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি জানান, ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সারাদেশে ২৬টি আসনে ‘রিকশা’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যান্য আসনে জোটের শরিক দলগুলোকে সমর্থন দেওয়া হবে।
মাওলানা মামুনুল হক তাঁর ঘোষিত ২২ দফার ইশতেহারকে একটি ‘ঈমানী দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জাতীয় নির্বাচনে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বাংলাদেশকে তার প্রকৃত মালিক জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক