নির্বাচনের ফল কারসাজির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান আমীর খসরুর
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত ও নির্বাচনের ফলাফল কারসাজির যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মেহেদীবাগের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ইলেভেন ফর ইলেভেন’ শীর্ষক তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, সামুদ্রিক এলাকা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে।
আমীর খসরু আরও বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণের জন্য দেওয়া ‘ইলেভেন ফর ইলেভেন’ প্রতিশ্রুতিগুলো নিছক বাগাড়ম্বর নয়, বরং তাদের প্রয়োজন মূল্যায়ন করে তৈরি বাস্তবসম্মত কর্মসূচি। আমি আমার প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বারবার সংকটময় ও পরিবর্তনশীল সময়ে বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে, ভবিষ্যতেও দেশের পুনর্গঠনে বিএনপির ওপর আস্থা রাখবে।
আমীর খসরু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘দেশের এ পরিবর্তনশীল সময়ে বিএনপির বিজয় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কারণ অতীতে দলটি সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। জনগণ আসন্ন নির্বাচনে কারসাজি বা গোপনে ক্ষমতা দখলের কোনো অপপ্রচেষ্টা মেনে নেবে না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড—যেমন ভুয়া সিল মারা, বোরকা ব্যবহার, এনআইডি সংগ্রহ ও বিকাশের মাধ্যমে ভোটারদের অর্থ প্রদানের প্রসঙ্গ টেনে আমীর খসরু সবাইকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত ও নির্বাচনের ফলাফল কারসাজির যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের জন্য ‘ইলেভেন ফর ইলেভেন’ শীর্ষক ১১ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ; বেকার তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ; চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন; পানীয় জলের ব্যবস্থা; জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা করা; দীর্ঘদিনে যানজট নিরসন পরিকল্পনা; ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; রাস্তাঘাটের বেহাল দশা দূর করে টেকসই সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা; চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট নিরসনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বাণিজ্য ও অর্থনীতি গতিশীল করা; নাগরিক সেবায় বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতা দূর করে একীভূত ও ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থা চালু এবং পরিকল্পিত, আধুনিক ও অগ্রগামী নগর হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি নগর-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, সাবেক সহসভাপতি এম এ আজিজ, নগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সাবেক সিসিসি ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)