‘বিএনপির বিজয় অনিবার্য, চূড়ান্ত ফল না পাওয়া পর্যন্ত সজাগ থাকুন’
বিএনপির বিজয় অনিবার্য, ভোটের চূড়ান্ত ফল না পাওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
মাহদী আমিন বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণকে উদাত্ত আহ্বান জানাই, ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য সজাগ থাকবেন। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যারা ভোট পরিচালনার সাথে রয়েছেন, তারা যেন সঠিক গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো অসংগতি না হয়, সেটি নিশ্চিত করুন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, দেশের জনগণ যে আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, ইনশাল্লাহ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত সরকার সেটি আন্তরিকভাবে প্রতিপালন করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্রবাহিনী, অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছ জ্ঞাপন করেন মাহদী আমিন।
এই নির্বাচনে সহিংসতার কারণে অনেকেই আহত হয়েছেন, নানা কারণে অনেকেই দুঃখজনকভাবে নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেখেছি, নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা, কারচুপি ও কালো টাকার মহোৎসব হয়েছে। যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জনগণও ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের যে দৃশ্যমান বিশাল পার্থক্য রয়েছে, সেটিকে প্রতিহত করাই ছিল গতকাল রাত থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মূল উদ্দেশ্য। সেজন্য ভোটারদেরকে হুমকি প্রদানের মাধ্যমে নিরুৎসাহিত করে ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখার ঘৃণ্য চেষ্টা করা হয়। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাগুলো না ঘটলে ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি হয়তো আরও বেশি হতে পারত।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, অনেক জায়গায় আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট পাওয়া গিয়েছে, জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মৃত হওয়ার অভিযোগ যেমন এসেছে, তেমনি অনেকেই গিয়ে নিজেদের ভোট দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ আছে, যা ফ্যাসিবাদী আমলের মতোই একজনের ভোট অন্যজনের দেওয়ার অপসংস্কৃতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
তিনি বলেন, স্থানীয় ভুয়া পর্যবেক্ষক তৈরির মাধ্যমে তারা এক ধরনের মব তৈরিরও চেষ্টা করেছে, যার মাধ্যমে ভোটার উপস্থিতিতে এক ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে। সেটা অনেক আগে থেকেই আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছিলাম। নির্বাচন কমিশন ক্ষেত্রবিশেষে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু পদক্ষেপটি আন্তরিক ও সামগ্রিক হলে সেটি আরও যথাযথভাবে রোধ করা সম্ভব হতো।
মাহদী আমিন বলেন, চিহ্নিত রাজনৈতিক দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে, যাতে ভোটারদের মনে ভোট প্রদানের বিষয়ে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়। বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির বিজয় অনিবার্য ও নিরঙ্কুশ, সেটিকেই স্তিমিত করার কোনো অপপ্রয়াসই সফল হবে না বলেই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ধানের শীষের জোয়ারে বিএনপির বিজয়, গণতন্ত্রেরই বিজয়। বাংলাদেশের বিজয় আসন্ন, ইনশাআল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক