আফরোজা খানম রিতা মন্ত্রী হওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন আফরোজা খানম রিতা। নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় জেলাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে সরাসরি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি—এটি যেমন এলাকাবাসীর জন্য গর্বের, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচিত ঘটনা।
নির্বাচনের ফল : সংখ্যায় স্পষ্ট বার্তা
ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আফরোজা খানম রিতা পান ১,৬৭,৩৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–সমর্থিত মুহাম্মদ সাঈদ নূর পান ৬৪,২৪২ ভোট। ফলে জয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ১,০৩,১০৩ ভোট—যা আসনটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪৮টিতেই এগিয়ে থাকা তার সাংগঠনিক সক্ষমতা ও তৃণমূলভিত্তিক সক্রিয় উপস্থিতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের আগে ও পরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ এবং সমন্বয়ও এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
জেলাজুড়ে উচ্ছ্বাস
মন্ত্রিত্ব লাভের খবরে মানিকগঞ্জ জেলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য বার্তা প্রকাশ করেন নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের শুভেচ্ছা
নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও মন্ত্রী হওয়ায় তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদনূর বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, তিনি মন্ত্রী হয়েছেন—আমরা আনন্দিত ও খুশি। তাকে স্বাগতম জানাই। শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থেকে তিনি মানিকগঞ্জবাসী তথা সকলের সেবা করতে পারবেন—এটাই আমাদের কামনা।”
আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহজাহান আলী সাজু বলেন, “আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব লাভ করেছেন। তাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই।”
এছাড়া মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ বলেন, “মানিকগঞ্জ জেলার একজন সংসদ সদস্যের মন্ত্রীত্ব অর্জন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এতে জেলাবাসী সুফল ভোগ করবে বলে আমি আশাবাদী। মানিকগঞ্জের একজন সন্তান হিসেবে তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই।”
শপথের আমন্ত্রণে উচ্ছ্বাস
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকেই মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। দলীয় কার্যালয়গুলোতে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা
দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই দশক সময় ধরে জেলা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ—এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে তিনি দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং জেলা পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা ও পেশাগত পরিচিতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা আফরোজা খানম রিতা ব্যবসায়িক অঙ্গনেও সুপরিচিত। তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনায় তার পরিবারের সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।
রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে নেতৃত্বে
তার রাজনৈতিক পথচলার সূচনা ২০০১ সালে, রাজনীতিক বাবা হারুনার রশীদ খান মুন্নু-র নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রাজনীতির ময়দানে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু। পরবর্তীতে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন করে ধাপে ধাপে নেতৃত্বের অবস্থানে আসেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার সাম্প্রতিক বিজয় এবং মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের বিকাশে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে তার ঐতিহাসিক জয় ও মন্ত্রিত্ব—দুটি ঘটনাই এখন জেলার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ