ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচদিন পর ৬ জনকে আসামি করে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিচারক এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীর আইনজীবী মো. নোমান সিদ্দিক রাতে এ তথ্য জানান। অভিযোগ দেওয়ার পর হাতিয়া থানার ওসিকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন বিচারক। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
মামলায় ছয় আসামি হলেন হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবদুর রহমান (৩২), মো. মতিন (৩৫), হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এমরান হোসেন কালা এমরান (৩৫) ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর বেলাল মাঝি (৪৮)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে শাপলাকলিতে ভোট দেওয়ায় ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পরে আসামিরা অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তদের নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এসময় বাদীর বসতঘরে ঢুকে স্বামীসহ তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটক রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন। পরে স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে চলে যান। পরদিন ভোর ৫টার দিকে আবারও একই সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় হামলা চালায়। এসময় বাদী ও তার স্বামীকে আবারও মারধর করা হয়। এসময়ও বাদীর শ্লীলতাহানি করা হয় এবং শাপলা কলির আরেক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে বলেন তারা। পরে সন্ত্রাসীরা ওই ঘরেও ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।
পরে শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি পুলিশ পাহারায় এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগীর চিকিৎসায় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের চাহিদাপত্রের আলোকে রোগীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন সুলতানা, ডা. ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও ডা. তাহমিনা আক্তার। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ কমিটি পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষ দাবি করেন, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমাদের বাড়িতে পৌঁছাতে ৩৫ মিনিট সময় লাগে। ওই রাতে রহমান ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বের হয়ে সোয়া ১১টার পর ওই ঘটনা ঘটায়। আমাদের হাতে ঘড়ি না থাকায় সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বুধবার বিকেলে ধর্ষণ মামলা রুজু করে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন বিচারক। আমরা এখনো মামলার কপি হাতে পাইনি। বৃহস্পতিবার কপি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. মাসুদ পারভেজ, নোয়াখালী