পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকা ও শিশুকন্যার মৃত্যু
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবীগঞ্জ-সোনাহার সড়কের মগবাজার এলাকা অতিক্রম করে ধরধরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- দেবীগঞ্জ পৌর শহরের কলেজপাড়া (আব্দুলপুর) এলাকার আজাদ হোসেনের স্ত্রী মমতা বেগম (৩৭) ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মুনতাহা। মমতার বাবার বাড়ি সোনাহারের নিকটবর্তী দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গজপুরী এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকাগামী নাদের গ্রুপের নীলফামারী ট্রাভেলস নামের একটি বাস যাত্রী নিয়ে সোনাহার রোড হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। একই সময় বিপরীত দিক বাবার বাড়ি থেকে দেবীগঞ্জের উদ্দেশে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন মমতা বেগম, তার যমজ দুই মেয়ে মুনতাহা ও মুবাশ্বিরা এবং ভাগনে মনিরুল ইসলাম। এসময় বাসটি মোটরসাইকেলেটিকে ধাক্কা দিলে এ ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় মোটরসাইকেল চালক মমতার ভাগনে মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন এবং মমতার আরেক মেয়ে মুনতাহার যমজ বোন মুবাশ্বিরা আঘাত পেলেও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। নিহত মমতা খারিজা গুয়াগ্রাম হাজরাডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষিকা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেপরোয়া গতিতে বাসটি আসছিল। পাশাপাশি সড়কের পাশে বালু ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপন এবং নিয়মিত বালু পরিবহণের কারণে রাস্তায় বালুর স্তর জমে ছিল। এতে মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এ দুর্ঘটনার পর বাসটি পালিয়ে যাওয়া শুরু করলে দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ায়, সোনাহার বাজার এলাকায় স্থানীয়রা চালকসহ বাসটিকে আটক করেন। বাসটির চালক নীলফামারী জেলার ইটাখোলা মাস্টারপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহাবুল ইসলাম। দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে বাস ও চালককে হেফাজতে নেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

হাসান রায়হান, পঞ্চগড় (দেবীগঞ্জ)