বিডিআর বিদ্রোহের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি মির্জা ফখরুলের
বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বনানী সামরিক কবরস্থান বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতি স্তম্ভের বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডে এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। আমরা আজ এসেছিলাম জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে, আমাদের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও আমাদের দলের পক্ষ থেকে যারা সেদিন শহীদ হয়েছিলেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই দিন থেকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এইজন্য মনে করি যে, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই নিরাপত্তাকে ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল। চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে মনোবল ও একই সঙ্গে বাংলাদেশের যে মনোবল সেটাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।
এই সময় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার জাহিদ হোসেন, জাগপার চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকির আহমেদ ভুঁইয়া ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ নিহত হন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের স্মৃতি বেদিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা জানান। ফুল দেওয়ার পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট জানান। পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
এ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, তিন বাহিনী প্রধান- সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পিলখানায় নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়রাও ছিলেন বনানীর সামরিক কবরস্থানে।

নিজস্ব প্রতিবেদক