পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড
পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণ। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত থাকার অভিযোগে আজ রোববার (১ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে বোর্ড চেয়ারম্যানকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা। পরে বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডে বর্তমানে মোট ১০৮ জন স্থায়ী কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে চাকরিতে যোগদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পদোন্নতি প্রক্রিয়া থমকে আছে। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৭ বছরে মাত্র ২০ জন কর্মচারীর পদোন্নতি হয়েছে, যেখানে বাকি ৮৮ জন কর্মচারী বছরের পর বছর ধরে একই পদে কাজ করে যাচ্ছেন।
বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোওদুদ-উল-করীম (বাবু) বলেন, আমরা ২০০৬-২০০৮ সালে যোগদান করেছি। ২০১৪ সালে চাকরি স্থায়ী হওয়ার ৩ বছর পর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মাত্র ২০ জনের পদোন্নতি হয়। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর পার হয়ে গেলেও পদোন্নতি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আজ রোববার দুপুর ২টা থেকে কর্মচারীরা বোর্ড চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরুন-নবীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং অবরুদ্ধ অবস্থা নিরসন করা হয়।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহা. তৌহিদুল ইসলাম কর্মচারীদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু আইনি জটিলতা ও মামলা চলছিল। পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও সিস্টেম অনুসরণ করতে হয়। আমরা সব জটিলতা কাটিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ফারুক হোসেন, দিনাজপুর