হত্যার পর পোড়ানো হয় শিক্ষার্থীর মরদেহ, পিবিআইয়ের তদন্তে যা জানা গেল
গাজীপুরে মাদ্রাসার হাফেজী বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার পর মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে হত্যার কারণ বেরিয়ে এসেছে। হত্যায় জড়িত ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়।
নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩)। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার দৌলতপুর এলাকায় এবং সে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর এসআই বিশ্বজিত বিশ্বাস বলেন, গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো মাহাবুব ইসলাম রনি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে রনি তারাবির নামাজ শেষে স্থানীয় মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয়।
স্বজনেরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরদিন স্থানীয় একটি জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। নিহতের মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের দাদা মো. তারা মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তার কিশোরকে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, এ ঘটনার রাতে আসামি ছাব্বির আহম্মেদকে ওই জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করার সময় দেখে ফেলে রনি। বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। ছাব্বির একাধিকবার অনুরোধ জানিয়ে নিষেধ করলেও রনি তাতে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির পেছন দিক থেকে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে ঘাড় মটকে গলা চেপে ধরে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় রনি। পরে নিহতের মরদেহ ওই জঙ্গলের ভেতর আগুনে পুড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় ছাব্বির।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর