ইনজেকশনের ভয়ে কেঁদেছিল শিশু, শান্ত করার বদলে ওটিতেই চড়-থাপ্পড়
পটুয়াখালী থেকে আসা ছোট্ট রিমনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আঙুলটি আর কোনোদিন জোড়া লাগবে না—এমন দুঃসংবাদ শোনার পর যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল শিশুটি, ঠিক তখনই তার ওপর নেমে এল অমানুষিক নির্যাতন। ইনজেকশনের সুঁই দেখে ভয়ে নড়াচড়া আর চিৎকার করায় শিশুটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে অপারেশন থিয়েটারেই (ওটি) সজোরে চড়-থাপ্পড় মারলেন হাসপাতালের এক কর্মচারী। শনিবার (৭ মার্চ) বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী রিমন পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় তার হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে সকালে শেবাচিমে আনা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পর যখন তাকে ওটিতে নেওয়া হয়, চিকিৎসকরা জানান আঙুলটি আর রক্ষা করা সম্ভব নয়। এরপর চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনজেকশন দেওয়ার সময় শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের ওটি সহায়ক শাহীন (নাজমুল)। তিনি রিমনের গালে এমনভাবে চড় মারেন যে, সেখানে স্পষ্ট আঙুলের ছাপ পড়ে যায় এবং এমনকি চোখের ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অপারেশন থিয়েটারের ভেতর থেকে রিমনের কান্নার শব্দ শুনে তারা ছুটে গিয়ে দেখেন এই করুণ দৃশ্য। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ওই কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শাহীনকে (নাজমুল) সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল