প্রথম পর্যায়ে বান্দরবানে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে ১০৯৭ পরিবার
সারা দেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও প্রথমবারের মতো পাইলট প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, দেশের ১০টি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে বান্দরবানের লামা উপজেলার ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে প্রথম পর্যায়ে এই কার্ড প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ যাদের জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫ একরের কম, এমন পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় টিসিবি পণ্য পাবে। বিশেষ করে নারীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় ১৩৮টি পরিবারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃত ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের তালিকা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের মাঝেই কার্ড বিতরণ করা হবে।
ইউএনও আরও জানান, বান্দরবানের ১২টি জাতিগোষ্ঠীর সবাই এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত, কাউকে আলাদা করে দেখা হয়নি।

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান
আমিনুল খন্দকার, বান্দরবান (আলিকদম-লামা)